এইদিন ওয়েবডেস্ক,পূর্ব মেদিনীপুর,১৫ ফেব্রুয়ারী : আজ রবিবার রাজ্য জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ শুরু হল । উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে সরকারি ক্যাম্পগুলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড় । এমএ, এমএসসি, এমনকী বিটেক ডিগ্রিধারীরাও ১৫০০ টাকার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম জমা করেছেন । এনিয়ে মমতা ব্যানার্জিকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি মমতার নাম না করে তার উদ্দেশ্যে বলেছেন,”টাকা কবে দেবে তার ঠিক নাই । তুই অনলাইনে করে দিতে পারতিস, বেকারদের ২০০ টাকা করে খরচ করে দিলি ।”
আজ রবিবার নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র নন্দীগ্রামে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর মাথাতে সবসময়ই এসআইআর, ভোটার তালিকা, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের কি করে রক্ষা করবে,এইসব চক্কর কাটছে । ভাবতে পারেন আজ সকাল থেকে বেকার যুবকদেরকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বেকার ভাতার ফর্মের জন্য । এটা অনলাইনে করা যেত না ? ওরা পাবেও না ।’তিনি বলেন,’এর আগে ২০১৩ সালে ১৭ লক্ষ ফর্ম ফিলাপ করেছিল, দেয়নি৷ ভোটের আগে এসব করছে, সবাই জানে পাবেনা কেউ ।’
এরপর মমতা ব্যানার্জির নাম না করে তাকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’তুই অনলাইনে করে দিতে পারতিস। সোনাঝুড়ার এক যুবককে নন্দীগ্রামে আসতে গেলে ১০০ টাকা খরচ আছে । ট্রেকারে ৩০-৩০ করে ৬০ টাকা খরচ আছে । টোটো তে গেলে ৫০-৫০ করে ১০০ টাকা খরচ আছে । সে সকাল আটটা থেকে লাইন দিয়েছে না খেয়ে । গ্রামাঞ্চলে অত সকালে কারুর বাড়িতে খাবার হয় না । তাকে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ছটার সময় । তার না হয়েছে খাওয়া । হোটেলে গেলে ৮০ টাকার কম মিল পাওয়া যায় না। ২০০ টাকা করে গড়ে পশ্চিমবঙ্গের যুবকদেরকে খরচ করিয়ে দিলি । এটা অনলাইনে করা যেত না ? সবার হাতে ফোন আছে অনলাইনে করে নিত৷ এখন কোনটা অফলাইনে হয় ? সব অনলাইনে হচ্ছে।’
তিনি বলেন,’এই মুখ্যমন্ত্রীর টেন্ডেন্সি হল, যে করেই হোক মিথ্যাচার করে ক্ষমতা দখল করা । ইনি ২০২১ সালে ভালো পায়ে প্লাস্টার জড়িয়ে বলেছিলেন ডবল ডবল চাকরি দেবো । এই নন্দীগ্রামেই ভালো পায়ে ব্যান্ডের জড়িয়ে এসে বলে গিয়েছিল । দেড় হাজার টাকা ভাতা দেবো বলে এমএ পাস যুবকদের ডেকে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। কবে দেবে তার ঠিক নাই । আমি তো দাবি করছি ২০১৭ সালে যে ১৭ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর কাছে ফর্ম নিয়েছিলে তার তালিকা প্রকাশ কর । সেগুলো কি কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে ? আমি শুনে অবাক যে রিসিভ কপি দিচ্ছে না । এগুলোকেও কি কেজি দরে বিক্রি করবে নাকি?’
প্রসঙ্গত,একুশের নির্বাচনে গেমচেঞ্জার ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। চব্বিশ পেরিয়ে ছাব্বিশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের কি ভাতার রাজনীতিতেই বাজিমাত করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী মনে করছেন যে ভাতার রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জির বিশেষ কোনো লাভ হবে না । তিনি বলেন,’ওসব লোভ নয় । হিন্দু যদি বাঁচতে চাও বিভেদ ভুলে এক হও । ঘাড়ের কাছে এসে গেছে জামাত । মানুষ বিজেপিকে আনবে।’ তিনি প্রতিশ্রুতি দেন,’মহিলারা তিনহাজার টাকা করে ভাতা পাবে । বাড়ি করার জন্য যে টাকা দরকার দেব । হাতে কাজ পেটে ভাত মাথায় ছাদ….বিজেপির অঙ্গীকার ।’ তিনি বলেন,’বিজেপি মুখে বলে না। ২১ টা রাজ্যে করেছে । ৬ মাসের মধ্যে হরিয়ানাতে তিন লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার ভ্যাকেন্সি পূরণ করে দিয়েছে। উড়িষ্যাতে মহিলারা পঞ্চাশ হাজার টাকা করে পাচ্ছে সুভদ্রা যোজনায় । বার্ধক্য ভাতা বিধবা ভাতা দিব্যাঙ্গ ভাতা, শিল্পী ভাতার টাকায় কিছুই হয় না ।’ তিনি বলেন,’আমাদের ২১ টা রাজ্যে যে কর্মসূচি আছে সেটা চালু করব এখানে । আমরা আয়ুষ্মান কার্ড চালু করব।’
উল্লেখ্য,বাজেট ঘোষণার পরেই তড়িঘড়ি নতুন ‘যুবসাথী’ প্রকল্প ঘোষণা করেন মমতা ব্যানার্জি । ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়াদ ৫ বছর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে বেকারদের হাতে নগদ টাকা পৌঁছে দিয়ে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ প্রশমনই মমতা ব্যানার্জির লক্ষ্য। আজ রবিবার থেকেই ফর্ম তোলা ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে । সরকারের লক্ষ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি চালুর আগেই অন্তত এক কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিয়ে শিক্ষিত বেকার যুব সম্প্রদায়ের মন জয় করা । কিন্তু মমতা আদপেই এতে যুব সম্প্রদায়ের মন জয় করতে পারবে কিনা, এটা জানতে আর মাত্র কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে৷।

