এইদিন ওয়েবডেস্ক,টুমকুর,১৫ ফেব্রুয়ারী : কর্ণাটকের কুনিগালের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা নামে এক মহিলার নিখোঁজের ঘটনায় বড়সড় মোড় এসেছে, যিনি চিকমাগালুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে আচমকা উধাও হয়ে যান । শেষ পর্যন্ত কুনিগালে তার প্রেমিকের বাড়ি থেতে ওই মহিলাকে পাওয়া গেছে।
ওই মহিলার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা সমগ্র রাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল । অবিশেষ স্থানীয় বেলুড় থানার পুলিশ এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ হওয়া মহিলাকে কুনিগালে পাওয়া গেছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে মহিলা বর্তমানে বেঁচে আছেন, যাতে মহিলার পরিবারের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে ।
হাসান জেলার বেলুড় তালুকের কালকেরের কাছে একটি বিয়েতে যোগ দিতে আসা তুমকুর জেলার কুনিগালের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কার (২৮) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি গুরুতর মোড় নেয়। প্রিয়াঙ্কা যে স্থানে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেখানে তার পোশাক, চপ্পল, অন্তর্বাস এবং ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই প্রিয়াঙ্কাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে, তদন্তের নেতৃত্বদানকারী পুলিশ তল্লাশি জোরদার করে । সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে, পুলিশ কুনিগালের গোট্টিকেরেতে ডেভিডের বাড়িতে মহিলাকে খুঁজে পায় এবং স্থানীয় পুলিশও বেলুড় পুলিশকে সহায়তা করে। বলা হয় যে প্রিয়াঙ্কা দুই দিন ধরে ডেভিডের বাড়িতেই থাকছিলেন।
অভিযোগ করা হয়েছে যে প্রিয়াঙ্কা নামের ওই মহিলা তার প্রেমিকের সাথে থাকার জন্য নিজের আত্মহত্যার নাটক তৈরি করেছিলেন । হ্রদে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার মত দৃশ্যপট তৈরি করতে প্রিয়াঙ্কা তার জিনিসপত্র হ্রদের পাড়েই ফেলে দিয়েছিলেন। এটি বেলুড় পুলিশের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল । কিন্তু পুলিশের ক্রমাগত প্রচেষ্টার পর, অবশেষে মহিলাটিকে তার স্বামীর বন্ধু ডেভিডের বাড়িতে পাওয়া যায়। তদন্তের সময়, পুলিশ তথ্য পায় যে কুনিগাল শহরের গোট্টিকেরেতে বসবাসকারী ডেভিড শহরের একটি কারখানায় ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন ।
ঘটনাটি কী?
তুমকুর জেলার কুনিগালের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা চিক্কামাগালুরুতে একটি বিয়েতে যোগ দেওয়ার সময় নিখোঁজ হন। ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে হাসান জেলার বেলুড় বাস স্ট্যান্ডের কাছে থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। ঘটনার আগে, প্রিয়াঙ্কা সন্ধ্যা ৭.৩০ নাগাদ তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বলেন, “আমি একজনের সাথে আছি” । এরপরেই তার ফোন কেটে দেন। পরে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায় । পুলিশ তল্লাশি চালালে বেলুড় তালুকেরের কাছে মহিলার অন্তর্বাস, চপ্পল এবং ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায় । যা মামলাটি আরও সন্দেহজনক করে তোলে। কিন্তু পরকীয়া প্রেমিকের জন্য এটা যে স্বামী ও পরিবারকে ধোঁকা দেওয়ার ওই মহিলার সুপরিকল্পিত গেমপ্লান তা কেউ ঘুনাক্ষরেও টের পায়নি । অবশেষে পুলিশ মহিলার সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয় ।।

