এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,১৪ ফেব্রুয়ারী : ২০২৬ সালের বিধানসভার ভোট দোরগোড়ায় । একদিকে প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রবল হাওয়া, পাশাপাশি অন্যদিকে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন(এস আই আর) প্রক্রিয়ার চাপে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অনেকটাই ব্যাকফুটে । তার মাঝে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ব্লকের হিজলনায় দলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এখন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের মাথাব্যথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে । যেটা জানা যাচ্ছে যে এক গোষ্ঠীর হুমকির জেরে রায়নার হিজলনায় দলীয় কার্যালয় খুলতেই পারছে না অন্য গোষ্ঠীর লোকজন। ফলে তালাবদ্ধ আছে তৃণমূলের কার্যালয়টি । সূত্রের খবর, পার্টি অফিস কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়া এবং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরেই বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দলীয় কার্যালয় । শুধু তাইই নয়, পার্টি অফিসের দখল নিয়ে যাতে পরিস্থিতি হিংসাত্মক না হয়ে পড়ে সেজন্য তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে তারপর থেকে কার্যত স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প পর্যন্ত করে রেখে দিতে হয়েছে প্রশাসনকে ।
প্রসঙ্গত,রায়না ব্লকে রাজনৈতিক হিংসার অতীত ইতিহাস আছে । পূর্ব বর্ধমান জেলায় রাজনৈতিক হিংসা কবলিত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম হল রায়না । সেই বামফ্রন্টের আমল থেকে রায়নার হিজলনা অঞ্চলে রাজনৈতিক সংঘর্ষ,গোলাগুলি ও বোমাবাজির ঘটনা নিত্যদিনের সঙ্গী। রাজ্যে ২০১১ সালে পালাবদলের পরে হিজলনার সেই চিত্রের বদল হয়নি । তৃণমূল ক্ষমতায় আসার কার্যত অব্যবহিত পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দের কারনে বামফ্রন্ট আমলের হিংসার পরম্পরা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে । শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব কিছুদিন গোষ্ঠীকোন্দলে রাশ টানে । কিন্তু গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল মাথাচাড়া দেয় । বর্তমানে বিধায়ক শম্পা ধাড়া ও রায়না ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের গোষ্ঠীর মধ্যে সাপে নেউলে সম্পর্ক।
জানা গেছে,এই দ্বন্দ্বের জেরে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের কিছু দিন পরেই হিজলনার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আসেন বামদেব মণ্ডল । যদিও তার দাবি যে পার্টি অফিসে অসামাজিক কাজকর্ম চলছিল,তাই তিনি তালা লাগাতে বাধ্য হয়েছেন । একমাত্র শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি তালা খুলবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন । অন্যদিকে বিধায়ক শম্পা ধাড়া গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করে তিনিও বিষয়টি দলের উচ্চ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
তবে বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই হিজলনায় দলের এই গোষ্ঠী কোন্দলে বিপাকে পড়ে গেছে শাসকদল । যদিও বিজেপি ও সিপিএম, উভয়েই দাবি করেছে যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিবাদের জেরেই হিজলনায় তৃণমূলের কার্যালয়ে তালা পড়েছে ৷ পাশাপাশি স্থানীয় সিপিএম নেতা বিনোদ ঘোষ দাবি করেছেন যে এক সময় হিজলনায় ওই পার্টি অফিসটি তাদেরই ছিল । ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল জোর করে দখল নিয়েছে ।।

