এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,১৪ ফেব্রুয়ারী : তাড়াহুড়ো করে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেননি এক কলেজ ছাত্রী । ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক তাকে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে দেয়৷ পরীক্ষার অ্যাডমিড কার্ড দেখিয়েও লাভ হয়নি । যদিও পরে ছাত্রীকে ফাইন করে ছেড়ে দেওয়া হয় । ছাড়া পেয়েই তড়িঘড়ি কলেজ পৌঁছান তরুনী । কিন্তু তার আর পরীক্ষায় বসা হয়নি । কারন পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়নি । সেই হতাশায় গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবন শেষ করে দিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার রসুলপুরের বাসিন্দা জয়শ্রী সরকার নামে ওই কলেজ ছাত্রী । এই ঘটনায় রেলের টিকিট পরীক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । যদিও এই ঘটনায় পূর্ব রেলের সিপিআরও শিবরাম মাজি জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন কিছু হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জানা গেছে,বর্ধমান উইমেন্স কলেজের ইতিহাসে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন মেমারি থানা এলাকার বাসিন্দা জয়শ্রী সরকার।বাবা জয়দেব সরকার পেশায় গাড়িচালক, মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। অভাবের সংসার । পড়াশোনা করে পরিবারের অভাব মোচন করার স্বপ্ন দেখতেন মেয়েটি । পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন ৷ শুক্রবার ছিল সেমিস্টারের পরীক্ষা । মা’কে বুথ লেভেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে । সকালেও বিডিও অফিসে বেরিয়ে গেছেন তিনি । রান্নাবান্না করে বাড়ি থেকে বের হতে একটু দেরি হয়ে যায় জয়শ্রী । তিনি সকালে তিনি রসুলপুর থেকে পড়িমরি করে রেলস্টেশনে পৌঁছান৷ ততক্ষণে ট্রেন চলে আসে । তাই আর টিকিট কাটা হয়নি । কিন্তু বর্ধমান স্টেশনে নামার পর টিকিট পরীক্ষক তাঁকে আটকায় । মেয়েটি টিকিট দেখাতে পারেনি ।
অভিযোগ যে টিকিট পরীক্ষক তাঁকে রেলস্টেশনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে । জয়শ্রী সরকার সমগ্র ঘটনার কথা খুলে বলেন । কলেজে সেমেস্টার পরীক্ষায় বসতে হবে জানিয়ে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করেন । এমনকি অ্যাডমিট কার্ডও দেখান । কিন্তু টিকিট পরীক্ষকের মন গলেনি । দীর্ঘক্ষণ বর্ধমান রেল স্টেশনে আটকে রাখার পর জয়শ্রী সরকারকে পরে জরিমানা করেই ছাড়ে ওই টিকিট পরীক্ষক । ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায় এবং সেমিস্টারের পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি । কারন পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় তাঁকে বসতে দেওয়া হয়নি ।
জানা যায়,এই ঘটনায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন জয়শ্রী সরকার । দুপুরে বাড়ি ফিরে একটি ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় নিজের ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান মধুমালা মণ্ডলের দাবি, পরীক্ষার নথি দেখানোর পরেও ছাত্রীকে ছাড়া হয়নি। ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে এবিষয়ে তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন । এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা ।।

