ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা প্রেমের দিনেই ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের রক্তের হোলি খেলা । হ্যাঁ… যারা প্রতি বছর ভ্যালেন্টাইন্স ডে উদযাপন করেন তারা সকলেই মনে রাখেন যে এটি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে একটা কালো দিন । আজ থেকে ঠিক ৭ বছর আগে এই দিনে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ৪০ জন বীর সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হয়েছিলেন। সেদিনের ঘটনা শুনে শুধু দেশ নয়,গোটা বিশ্ব হতবাক হয়ে গিয়েছিল।
পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপোরার কাছে যখন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাটি ঘটে, তখন ছুটি থেকে ফিরে আসা কর্মীসহ মোট ২৫৪৭ জন সিআরপিএফ সদস্য ৭৮টি গাড়িতে জম্মু থেকে শ্রীনগর যাচ্ছিলেন। একজন আত্মঘাতী বোমারু ১০০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সৈন্যদের বাসে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গাড়ি এবং বাসটিকে এতটাই চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় । সৈন্যদের মৃতদেহ ১০০ মিটার ব্যাসার্ধে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে । পিছন থেকে আসা অন্যান্য বাসগুলিও বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাসটি ৭৬তম ব্যাটালিয়নের ছিল এবং এতে ৪০ জন সৈন্য ছিল। আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ছিল আদিল আহমেদ, পুলওয়ামার কাকাপোরার বাসিন্দা। ঘটনার ছয় দিন পর, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) কাশ্মীর পুলিশের কাছ থেকে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তে জানা গেছে যে সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল ২৩ বছর বয়সী জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্ত্রাসী মুদাসসির আহমেদ খান, যে পরে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিকেশ হয়।
যেহেতু লোকসভা নির্বাচনের দুই মাস আগে এই হামলাটি ঘটেছিল, তাই এটি একটিকে রাজনৈতিক ইস্যু করে কংগ্রেসহ বিরোধী দলগুলি ।দেশজুড়ে এই হামলার ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছিল। দলীয় পরিচয় ভুলে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা এবং সামাজিক অভিজাতরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলেন । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন যে এই হামলার পর তাঁর হৃদয়ে গভীর আঘাত দিয়েছে । আমরা অবশ্যই প্রাণ হারানো সৈন্যদের রক্তের প্রতিশোধ নেব। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শত্রুর উপর প্রতিশোধ নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পুলওয়ামা হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সমর্থন জানিয়েছে। পাকিস্তানের মিত্র চীনও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে সমর্থন করে এটিকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে অভিহিত করেছে। এই ভয়াবহ হামলার পর, জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অবশেষে গত বছরের ১ মে সফল হয়।
পুলওয়ামা হামলার ঠিক ১২ দিন পর, ভারত প্রতিশোধ নেয়। ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে একটি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করে দেয়। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল যে এই বিমান হামলায় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী খতম হয়েছে।
এদিকে ইতিমধ্যে, জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সর্বত্র তল্লাশি অভিযান চালানো হয় । সম্ভাব্য আক্রমণ রোধ করার জন্য তল্লাশি অভিযান চালানো হয় । অভিযানের সময় লোকজনের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয় । উপত্যকায় এখনো সতর্ক ভারতীয় সেনা ।
আজ সেই কালো দিন। আত্মঘাতী হামলাটি হয়েছিল ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ৷ আজ জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার ৭ বছর পূর্ণ হলো । শহীদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে গোটা দেশ । এইদিন-এর তরফে ভারতীয় বীর শহীদ সেনাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

