প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান১৩ ফেব্রুয়ারী : বিজেপির বিএলএ-এর বাড়িতে রাতে দলবল নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় চড়াও হয়ে মারধর ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে । আক্রান্ত বিজেপির বিএলএ নবকুমার কর্মকার বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ দফতর ও জামালপুর থানায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা লাল্টু ভঞ্জ ও তার দলবলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত লাল্টু ভঞ্জ তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বলে জানা গেছে । যদিও আজ শুক্রবার পর্যন্ত গ্রেপ্তারির কোনো খবর নেই বলে জানা গেছে । অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ৷
জানা গেছে,আক্রান্ত নবকুমার কর্মকার জামালপুরের পাড়াতল ১ নম্বর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পর্বতপুরের ১২৯ নম্বর বুথের বিজেপির বিএলএ (২)-এর দায়িত্বে রয়েছেন । তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগে জানিয়েছেন,গত মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মদ্যপ অবস্থা তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় লাল্টু ভঞ্জ ও তার দলবল । তারা তাঁকে মারধর করে এবং হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়,“তুই যদি আর বিজেপি করিস তাহলে তোকে প্রাণে মেরে দেব। তোর এত সাহস যে তুই ১২৯ নম্বর বুথের বিএলএ হয়েছিস!” লাল্টু ভঞ্জ যাওয়ার শাসিয়ে যায়, “তুই পুলিশকে জানালেও কিছু হবে না”।
জানা যায়,ঘটনার কথা প্রথমে দলীয় নেতৃত্বকে জানান আক্রান্ত নবকুমার কর্মকার। এরপর বৃহস্পতিবার জামালপুর ১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল তাকে সাথে নিয়ে জামালপুর থানা ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়ে আসেন । প্রধানচন্দ্র পাল বলেন,’তৃণমূলের এত রাগের কারন হল,বিজেপির বিএলএ-দের জন্য তৃণমূলের লোকজন ভুয়ো ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পারছে না।বিজেপির বিএলএ-রা ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছেন । এরপর বিজেপির এই রকম বিএলএ-রা আসন্ন বিধানসভা বিধানসভা ভোটে বুথ এজেন্ট হলে ভোট-চুরি যে আটকে যাবে সেটা তৃণমূলের নেতারা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে । তাই তারা এখন বেছে বেছে বিজেপির বিএলএ-দের উপর আক্রমণ চালাতে শুরু করে দিয়েছে যাতে তারা পিছু হঠে ।’
যদিও অভিযুক্ত লাল্টু ভঞ্জ বিজেপির এই অভিযোগ অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার পাশাপাশি জামালপুরের বাসিন্দা জেলা তৃণমূলের দুই নেতা শ্রীমন্ত রায় ও শুভ্রনীল চৌধুরী বলেন,’বিধানসভা ভোটে বিজেপি যে জামালপুরে জিততে পারবো না, সেটা বিজেপি নেতারা বুঝে গিয়েছে। তাই তারা ভোটের আগে তৃণমূলের নামে নানা মিথ্য অভিযোগ এনে তৃণমূলের বদনাম করে বাজার গরম করতে চাইছে ।’।

