এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১২ ফেব্রুয়ারী : ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যে “বন্দে মাতরম” গানে স্বাধীনতাকামী আপামর ভারতীয় উদ্বেলিত হত । দেশের পরাধীনতা মোচনে নতুন উদ্যোম নিয়ে আসত । সেই পবিত্র গানকে কার্যত “সাম্প্রদায়িক” তকমা দিয়ে মুসলিম-বান্ধব’ রাখার জন্য কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ জারি করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু । জাতীয়তাবাদী ভারতীয়দের প্রাণপ্রিয় সেই গান “বন্দে মাতরম”কে পূর্ণ মর্যাদা দিতে সময় লেগে গেলো স্বাধীনতার পর ৭৯ বছর । সম্প্রতি “বন্দে মাতরম”-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে সমস্ত সরকারি স্কুল ও প্রতিষ্ঠানের যেকোনো অনুষ্ঠানে “বন্দে মাতরম” গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়িয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে এই গান গাইতে হবে ।
কিন্তু কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের এই নির্দেশ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না “অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড” । তারা “বন্দে মাতরম” গানকে “ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের পরিপন্থী” আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে যে এই গানে “দেবী দুর্গা এবং অন্যান্য দেবতাদের পূজা ও শ্রদ্ধার উল্লেখ” তাদের ইসলামি মতাদর্শের বিরোধী । আজ ওই ইসলামি সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডঃ ভাকর উদ্দিন লতিফী স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশের বিরোধিতা করা হয়েছে । বিবৃতিতে বলা হয়েছে : “অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে, যেখানে সরকারি অনুষ্ঠানে এবং স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত, জন গণ মন-এর আগে বন্দে মাতরমের সমস্ত শ্লোক পাঠ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বোর্ড এই সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে।
এক প্রেস বিবৃতিতে, বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা মোহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করে এটিকে অসাংবিধানিক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের পরিপন্থী, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী এবং মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত মুসলমানদের কাছে সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।”
বলা হয়েছে,”মাওলানা উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ এবং গণপরিষদে আলোচনার পর, বন্দে মাতরমের শুধুমাত্র প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন যে, একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপর এক ধর্মের বিশ্বাস বা শিক্ষা জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না। তিনি আরও বলেন যে, গানটি বাংলার প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে এবং এতে দুর্গা এবং অন্যান্য দেবতাদের পূজা ও শ্রদ্ধার উল্লেখ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পিছনে রাজনৈতিক বিবেচনা যাই হোক না কেন, মুসলমানরা এটি গ্রহণ করতে পারে না, কারণ এটি সরাসরি তাদের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। একজন মুসলিম কেবল এক ঈশ্বর, আল্লাহকে, অংশীদার ছাড়াই উপাসনা করে এবং ইসলাম ঈশ্বরের সাথে কোনও ধরণের অংশীদার স্থাপনের অনুমতি দেয় না।
সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন যে ভারতীয় আদালতও অন্যান্য শ্লোকগুলিকে ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে রায় দিয়েছে এবং তাদের আবৃত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অতএব, বোর্ড দাবি করছে যে কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করুক; অন্যথায়, বোর্ড এটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে।”

