পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),১২ ফেব্রুয়ারী : বছর দেড়েকে হাইড্রেনের সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ । ফলে ড্রেনটি মজে গিয়ে উপচে পড়া নোংরা জল ঢুকছে আশপাশের বাড়িতে । খবর পেয়ে দু’জন সাফাই কর্মীকে নিকাশি নালা পরিষ্কারের জন্য পাঠান স্থানীয় কাউন্সিলর । কিন্তু “একটা কোদাল আর একটা ব্রাশ” হাতে মাত্র দু’জন সাফাই কর্মীকে দেখে চরম ক্ষিপ্ত হন স্থানীয় মহিলারা৷ তারা কাজ আটকে দিলে কাউন্সিলর নিজে ছুটে আসেন । আর তারপরেই তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে । আজ বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় । বিক্ষোভের মুখে পড়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সুজয় সিদ্ধান্ত বলেন, ‘আমার আন্ডারে দুজন লেবার আর একজন সুইপার আছে । তাদের দিয়ে এলাকার ছোট ড্রেনগুলি পরিষ্কার করাই । বড় ড্রেনের জন্য আরও লোক দরকার ৷ কিন্তু পাচ্ছি না ।’
জানা গেছে,আজ সকালে কালনা পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার হাইড্রেন উপচে ঘরবাড়িতে নোংরা জল ঢুকতে শুরু করে । ফলে চুড়ান্ত নাকাল হতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের । ক্ষিপ্ত মহিলারা মহল্লার রাস্তায় নেমে এসে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন । ইতিমধ্যে ‘জন সাফাই কর্মী একটা কোদাল ও একটা ব্রাশ হাতে এলে তাদের আটকে রাখা হয় । কেড়ে নেওয়া হয় কোদাল ও ব্রাশ । স্থানীয় গৃহবধূ তুলু সিকদার সাহার অভিযোগ,’প্রায় দেড় বছর ড্রেনের সংস্কার হয়নি । যে পুকুরে জল নিকাশ হয় সেখানে কচুরি পানায় মজে গেছে । যেকারণে ড্রেনের জল ড্রেনেই থাকে । ফলে প্রতিবেশী কারোর বাড়ির মোটর পাম্পের জল একটু ড্রেনে গড়ালেই সেই জল আমার বাড়িতে এসে ঢোকে ।’ তিনি আরও বলেন,’আজ সকাল প্রায় ৮ টা নাগাদ ড্রেন থেকে হু হু করে নোংরা জল আমার ঘরের মধ্যে ঢুকতে শুরু করে । কাউন্সিলরকে খবর দেওয়াতে দু’জন সাফাই কর্মীকে হাতে একটা কোদাল আর একটা ব্রাশ ধরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । অতবড় ড্রেন মাত্র দু’জন কি করে সাফাই করবে ? তাই কাজ আটকে দিয়েছি।’ তার অভিযোগ,’এই হাইড্রেন পরিষ্কারের জন্য বহুবার কাউন্সিলর এবং পৌরসভাকে জানিয়েও কোন ফল হয়নি।’
জানা গেছে,খবর পেয়ে ছুটে আসেন কাউন্সিলর সুজয় সিদ্ধান্ত৷ তাকে সামনে পেয়ে মহিলা নিকাশি নালার বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ জানান । ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় তাকে । কাউন্সিলর বলেন, ‘পৌরসভার কনজারভেন্সির বিভাগের ১০ জন লেবার আছে । বারবার বলছি লোক দেওয়ার জন্য । কিন্তু ১৮ ওয়ার্ড বিশিষ্ট পুরসভার অন্য ওয়ার্ডে কাজ করতে গিয়ে হয়ত আমার ওয়ার্ডে লোক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না৷ আশা করছি ২-৩ দিনের মধ্যে ড্রেনের সংস্কার হয়ে যাবে ৷’
সাফাইকর্মী কৈলাশ রাজবংশী বলেন,’আমাদের কাজ ছোট ড্রেন সাফাই করা । তাই আমাদের কোদাল আর ব্রাশ হলেই চলে । বড় ড্রেন সংস্কার স্পেশাল দল করে । সেই স্পেশাল দল না পাওয়াতেই মাস ছয়েক ধরে হাইড্রেনগুলির কাজ আটকে আছে ।’ পাশাপাশি পুরসভার সাফাই কর্মীর অভাব প্রসঙ্গে তিনি জানান যে মাত্র ২০০ টাকা মজুরিতে কেউ কাজে আসতে চাইছে না । এদিকে বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই এই ড্রেন ইস্যুতে বিপাকে পড়ে গেছে শাসকদল । যদিও আজকে ক্ষোভের মুখে পড়াকে তেমন গুরুত্ব দেননি কাউন্সিলর সুজয় সিদ্ধান্ত । তিনি বলেন,’ড্রেন পরিষ্কার হলেও সবার রাগ কমে যাবে । সকলেই আমার চেনাজানা মানুষ৷ ওটা কোনো ব্যাপার নয় ।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ড্রেন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেই ব্যাপক কাজ আরম্ভ হবে । তবে ফেব্রুয়ারী পেরোলেই বেজে যাবে ভোটের ঘন্টা । তাই এমসিসি চালু হলে আরও কয়েক মাস আদপেই কাজ হবে কিনা এনিয়ে ধন্দ্বে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।।

