প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১০ ফেব্রুয়ারী : সমকামে আসক্তি ! আর তারই জেরে এইচআইভি আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন শহর বর্ধমানের প্রায় ৩০ জন যুবক।এঁরা সকলেই উচ্চ শিক্ষিত এবং পেশাগত ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত ।।তবে শুধু শহর বর্ধমান নয়,গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে মহিলাও রয়েছে।এইচআইভি পজিটিভ রোগীর হার বৃদ্ধি জেলার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের যঠেষ্টই দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ।
এনিয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন,’বহু সচেতনতা প্রচার চালানো হলেও অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকছে না। আমরা এইচআইভি পরীক্ষার সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দিয়েছি। শুধু পুরুষ নয়, মহিলা ও যুব সমাজের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’ জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে দাবি করা হয়েছে, বর্ধমান ও কালনা শহর এলাকায় এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বাড়লেও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় তা কমেছে। গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় জানান,’জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তার মধ্যে বর্ধমান শহরের ৩০ জন যুবক রয়েছে। তাঁরা সকলেই শিক্ষিত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।’ অনিরাপদ যৌন আচরণের কারণেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে বলে বিশ্বনাথ রায় জানিয়েছেন।’
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,সম্প্রতি এক যুবকের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর পরীক্ষা করে এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও পরীক্ষা করা হলে একে একে আরও সংক্রমণের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়ের পর অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণেই সংক্রমণ বৃদ্ধি ঘটেছে। এই যৌন র্যাকেটের জাল দিল্লি থেকে চেন্নাই,কিংবা কলকাতা থেকে মুম্বাই, দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের দাবি ।
বর্ধমানের বিশিষ্ট চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা বলেন, ‘বর্তমানে এইডএসের চিকিৎসায় এ বাজারে অনেক ওষুধ আছে। যা রোগকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং রোগকে গোপন বা পুষে না রেখে পরীক্ষা করে সচেতন হওয়া উচিত। অনিরাপদ যৌন সম্পর্কই এইচআইভি সংক্রমণের প্রধান কারণ। এ নিয়ে শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও যে সচেতনতার অভাব রয়েছে, সেটা এখন দেখা যাচ্ছে। এটা যথেষ্টই উদ্বেগের ।’।

