এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ ফেব্রুয়ারী : রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দায়ের করা মামলার আজ সোমবার শুনানি হল সুপ্রিম কোর্টে । বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এসআইআর শুনানির সময়সীমা ১ সপ্তাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে । মোটের উপর আজকে সুপ্রিম কোর্টের রায় মমতা ব্যানার্জির জন্য তেমন কিছু আশাব্যঞ্জক ছিল না । আজকের সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার “আসল সারমর্ম” সামনে এনেছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ও রাজ্য বিজেপির যুবমোর্চার সহ-সভাপতি তরুনজ্যোতি তিওয়ারি ।
তরুনজ্যোতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আজকের সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার আসল সারমর্ম হল : আজ সুপ্রিম কোর্টে SIR (Special Intensive Revision) মামলার শুনানি নিয়ে নানা কথা হবে, নানা “বিশ্লেষণ” আসবে।
কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ সত্য ইচ্ছাকৃতভাবে বলা হচ্ছে না। সেগুলো একবার পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার।
১. সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে—SIR হবেই। এটাকে থামানো যাবে না।
২. রাজ্য সরকারকে ৪/২/২৬ তারিখের মধ্যে অফিসারদের তালিকা দেওয়ার কথা ছিল।আজ পর্যন্ত সেই তালিকা রাজ্য সরকার দেয়নি।
৩. ECI একটি quasi-judicial body। তাই তারা এমন অফিসার চেয়েছিল, যাদের শুনানি নিয়ে আদেশ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।অদ্ভুতভাবে রাজ্য সরকার সেই ধরনের অফিসার দেয়নি / দিতে পারেনি।
৪. রাজ্য সরকার যে অফিসারদের দিয়েছে, তাদের বেশিরভাগেরই quasi-judicial কাজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
৫. Micro Observer-দের ভূমিকা খুব সীমিত। শুনানির প্রথম দিন থেকে ECI এটা বলেছে এবং আজকেও আবার বলেছে যে MO রা শুধু ERO-দের সাহায্য করে। এই আদেশের পিছনে চাল চোরদের নেত্রীর কোন অবদান নেই। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আজকের নির্দেশাবলি (সংক্ষেপে):
রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে—আজ দেওয়া ৮,৫৫৫ জন Group-B অফিসারকে বিকেল ৫টার মধ্যে DRO-দের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।
ECI-র পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে—প্রয়োজনে ERO / AERO বদলানো বা যোগ্য হলে আগেরদেরই কাজে লাগানো যাবে।
নতুন রাজ্য সরকারি অফিসারদের ১–২ দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে Micro Observer হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ERO।
Micro Observer বা রাজ্য সরকারি অফিসাররা শুধু সহায়তা করবেন।নতুন অফিসার যুক্ত হওয়ায়,১৪ ফেব্রুয়ারির পরে আরও ১ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে—ডকুমেন্ট স্ক্রুটিনি ও সিদ্ধান্তের জন্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—রাজ্যের DGP-কে ব্যক্তিগত হলফনামা দিতে বলা হয়েছে,কারণ ECI অভিযোগ করেছে SIR অফিসারদের বিরুদ্ধে হুমকি, ভয় দেখানো ও হিংসা রোখা যায়নি।
এটাই আজকের দিনের পুরো সারমর্ম। এর বাইরে কেউ যদি “বড় কিছু”, “ভিন্ন গল্প” শোনায়—সোজা জিজ্ঞেস করবেন: কোন অর্ডার থেকে বলছেন? কোন প্যারাগ্রাফ থেকে? তথ্য থাকুক সামনে,রাজনৈতিক নাটক নয়।
আজ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্য নিশ্চিত করবে ৮,৫০৫ জনই গ্রুপ-বি অফিসার। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরও-র কাছে তাঁদের রিপোর্ট করতে হবে। এবং, দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন এই কর্মীদের পরিবর্তন করতে পারবে। তবে মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনও ভাবেই নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই ক্ষেত্রের ইআরওদের নির্দেশই চূড়ান্ত।
আজকে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন বাড়তে চলেছে। এর ফলে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের যে পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল, তা নিশ্চিতভাবেই পিছিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই আইনি জটের চেয়েও সোমবার রাজ্যের ডিজিপি (DGP) পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে সর্বোচ্চ আদালত। শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে কমিশনের প্রতিনিধিদের নূন্যতম নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় পুলিশ কোনও সহযোগিতা করছে না, উলটে বহু জায়গায় ‘ফর্ম ৭’ জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিশন নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে। শুনানি কেন্দ্রে হামলার ঘটনা শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি সাফ বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব রাজ্য সরকার ও ডিজিপি-র।’ কেন নির্বাচন আধিকারিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্যের পুলিশ প্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে শোকজ করে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, স্বচ্ছ নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।।

