ফের উগ্র ইসলামিক প্রচারক জাকির নায়েককে নিয়ে একটি খবর সামনে এসেছে । এবারে দাবি করা হচ্ছে যে জাকির প্রবল শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় কুয়ালালামপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং সেখানে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন । এর আগে জাকির নায়েক,তার স্ত্রী ও মেয়ের এইডস আক্রান্ত হওয়ার খবর রটেছিল । যদিও পরে জাকির নায়েক সোশ্যাল মিডিয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন ।
কিন্তু আজ সোমবার বাবা বেনারস নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,উগ্র ইসলামিক প্রচারক জাকির নায়েক শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় কুয়ালালামপুর (HKL) হাসপাতালের ভেন্টিলেটরে চিকিৎসাধীন এবং শেষ নিঃশ্বাসের প্রতীক্ষা করছেন ।’ তিনি আরও লিখেছেন,’মালয়েশিয়া অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি হাসপাতালে রয়েছে যেখানে নিকটাত্মীয়দের প্রবেশাধিকার সীমিত। এর আগে তার মেয়ে এবং স্ত্রীর সাথে এইডস ধরা পড়েছিল (সূত্র) ।’ এর আগে একই এক্স হ্যান্ডেলে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর দাবি করা হয়েছিল,উগ্র ইসলামিক প্রচারক জাকির নায়েকের এইডস ধরা পড়েছে। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে মালেশিয়ার সানওয়ে মেডিকেল সেন্টারে হাসপাতালে ভর্তি।
যদিও এক্স গ্রোক জানিয়েছে যে এই দাবি সত্য নয়। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মিথ্যা গুজবের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা জাকির নায়েক অস্বীকার করেছিলেন। তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট (drzakiranaik) ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পোস্ট করছে, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি সুস্থ আছেন। কোনও বিশ্বাসযোগ্য সূত্র সাম্প্রতিক কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে না।
প্রসঙ্গত,প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের সময় পলাতক জাকির নায়েককে ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সেদেশের সরকারের কাছে দাবি জানান । জাকির নায়েকের প্রত্যর্পণের ব্যাপারে মালয়েশিয়া ভারতকে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার দাতো’ মুজাফফর শাহ মুস্তাফা বলেছেন যে মালয়েশিয়া দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে আইনি ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করা হবে।
জাকির নায়েক ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ঘৃণা ছড়ানো এবং তরুণদের চরমপন্থায় উস্কে দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে পালানোর পর তিনি মালয়েশিয়ায় পৌঁছান, যেখানে তাঁকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ভারত ২০১৮ সাল থেকে তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু মামলাটি মালয়েশিয়ার আদালতে আটকে আছে।।

