এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০৮ ফেব্রুয়ারী : রেফ্রিজারেটর,এয়ার কুলার তো দুরের কথা, নেই কোনো সাদা-কালো টিভিও। বিদ্যুৎ খরচ বলতে দুটি এলইডি বালব আর একটি ফ্যান । তাও শীতের জন্য ফ্যানের ব্যবহার নেই । বিপিএল কোটায় রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছিল বলেই বাড়িতে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে৷ নাহলে হ্যারিকেন আর প্রদীপের আলোতেই হয়ত জীবন কাটাতে হত । তাতেও কাউকে ২৫ হাজার, কাউকে ৫০ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দিয়ে গেছে বিদ্যুৎ দপ্তর । এই প্রকার ভুতুড়ে বিলে তাড়ায় এখন কার্যত রাতের ঘুম উবে গেছে মালদা জেলার মোথা বাড়ি বিধানসভার ভাগলপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি হতদরিদ্র পরিবারের । স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে সাথে প্রশাসনের কাছে গিয়ে এই বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল থেকে পরিত্রাণের কাতর আকুতি জানিয়েছে তারা৷
ভাগলপুর গ্রামটি রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত । প্রায় প্রতিটি পরিবারই দারিদ্র সীমার নিচে । পরিবারের সদস্য সদস্যারা কৃষি শ্রমিকের কাজ করেন । নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার । বিপিএল তালিকাভুক্ত এমনই ৫০টি পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল রাজ্য সরকার । তবে নামে বিনামূল্যে হলেও সম্প্রতি পরিবারগুলির হাতে হাজার হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল ধরিয়ে দিয়ে গেছে৷ এর মধ্যে ২০টিরও বেশি পরিবারকে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিদ্যুতের বিল পাঠানো হয়েছে। যদিও অধিকাংশ বাড়ির বিদ্যুতের মিটার অকেজো হয়ে পড়ে আছে ।
পেশায় দিনমজুর কৈলাস সরকারের হাতে ধরানো হয়েছে ২২ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল । তিনি বলেন, ‘হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে একবেলার অন্ন সংস্থান করতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছি । তারই মাঝে বাড়িতে একসঙ্গে তিন মাসের বিল পাঠানো হয়েছে ২২ হাজার টাকা। এখন এত টাকা কোথা থেকে দেব?’ গ্রামের আর এক দিনমজুর শ্যামনাথ সরকার বলেন, ‘বাড়িতে ফ্রিজ নেই। জলের পাম্প নেই। দুটো সাদা বাল্ব ও গরমকালে একটি ফ্যান চলে। একটি টিভি রয়েছে। তার জন্য ৪০-৫০ হাজার টাকার বিল পাঠানো হয়েছে । কিভাবে এত বিল হল কিছুই বুঝতে পারছি না ।’
এদিকে বিধানসভার ভোটের ঠিক মুখেই এই ঘটনার কারনে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল । যদিও রথবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের স্থানীয় সদস্য বাবু সরকার বলেছেন,’আমি গ্রাহকদের সাথে নিয়ে বিডিও, এমনকি জেলা শাসকের কাছেও গেছি । দিদিকে বল কে ফোন করেছিলাম৷ কিন্তু কেউ কোনো সুরাহা করে দেয়নি ।’ এদিকে বিষয়টি শাসকদলকে তুলোধুনো করেছে বিজেপি । উত্তর মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি অভিষেক মিশ্র বলেন,’তৃণমূল মানেই মিথ্যাবাদী,চোর । ওরা খালি দরিদ্র মানুষকে শোষণ করতে ভালো জানে ।’ যদিও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের মালদার রিজিওনাল ম্যানেজার সৌমেন দাস ওই পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে ।।

