এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৮ ফেব্রুয়ারী : পাকিস্তান বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার মুখে । পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বিশ্বব্যাংক, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে “ভিক্ষা” করে এনে কোনো রকমে সরকার পরিচালনা করছেন । এদিকে দেশে চরম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে নাজেহাল অবস্থা পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ৷ এতদিন পাকিস্তানের একাংশের মানুষ সৌদি আরবের মক্কায় হজ করতে যাওয়ার নামে ভিক্ষাবৃত্তি করে মোটা টাকা কামাচ্ছিল । কিন্তু সৌদি সরকারের কড়াকড়িতে সে রাস্তাও বন্ধ । তাই অভাবের তাড়নায় তারা এখন চুরির পেশা গ্রহণ করেছে ।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে নর্দমার ম্যানহোলের ধাতব ঢাকনা ব্যাপক হারে চুরি যেতে শুরু করেছে । পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছে যে খোদ পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজকে আসরে নামতে হয়েছে । ম্যানহোলের ধাতব ঢাকনা চুরি আটকাতে তিনি “নর্দমা আইন” পর্যন্ত লাগু করেছেন । এমনকি যেসমস্ত ভাঙাচোরার ব্যবসায়ী কিনবে তাদের জন্যও জেল ও আর্থিক সাজার বিধান রাখা হয়েছে ।
নতুন এই আইন অনুযায়ী,নর্দমার ঢাকনা চোরদের জন্য ১০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে । মরিয়ম নওয়াজ বলেছেন,আমরা দিনের বেলা ম্যানহোলের ঢাকনা লাগাই, কিন্তু রাতে চুরি হয়ে যায়। শুধুমাত্র লাহোরে ১০,০০০ এরও বেশি ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়েছে । আল্লহর দোহাই, নর্দমার ঢাকনা চুরি করবেন না! পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে মাত্র একদিনে প্রায় ৬,৭০০টি ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত,ইতিমধ্যেই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তান । মানুষ এখন ভাঙারি পয়সা রোজগারের জন্য ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করছে — যা একটি পূর্ণাঙ্গ সংকটের স্পষ্ট লক্ষণ। চুরি বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পাঞ্জাব সরকার একটি নতুন আইন চালু করেছে: ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি, বিক্রি বা কিনলে ১ থেকে ১০ বছরের জেল হবে। যদি এর ফলে কারোর মৃত্যু হয়, তবে শাস্তি হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। এটি অদ্ভুত শোনালেও দুঃখজনকভাবে প্রয়োজনীয় এক পদক্ষেপ পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকারের ।
পুরো পাকিস্তান জুড়ে, ঢাকনাবিহীন নালাগুলো সত্যিকারের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে । অভিযোগ রয়েছে যে দ্রুত টাকা উপার্জনের জন্য ঢাকনাগুলো চুরি করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু লাহোরেই প্রতি বছর ১০,০০০-এর বেশি ঢাকনা গায়েব হয়ে যায়। যা একটি অদ্ভুত অপরাধ হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন একটি গুরুতর জননিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে।।

