যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে মাইকে আজান পড়া নিষিদ্ধ । প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি নিতে হয়,তাও মেলে না । উত্তরপ্রদেশে এখন থাকতে ভয় লাগে । তাই “মুসলমানদের জন্য নিরাপদ রাজ্য” পশ্চিমবঙ্গে সকলকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন ইউপির ইমাম মওলানা জারজিশ আনসারি । ওই ইসলামি ধর্মগুরুর একটা ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে । যেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে,’বিশ্বাস হচ্ছে না ? আমাদের উত্তরপ্রদেশ চলে যাও । উত্তরপ্রদেশে আমার থাকতে মন চায়না, চলো বাংলায় স্থানান্তরিত হয়ে যাও । এই বিষয়ে অনেকবার আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে । কিন্তু শোনা আমার ভাইরা,আজ কেমন পরিস্থিতি ? মাদ্রাসায় দিয়ে দেখো, শতাধিক মাদ্রাসায় বুলডোজার চালিয়েছে ।
নিজেকে দেখিয়ে তিনি বলেন,জারজিশ সাহাবও ইটাবার একটা মসজিদের সেক্রেটারি । আমি আমার মসজিদে খুতবা তো দিতে পারি,কিন্তু ইশার পর কোনো প্রোগ্রাম আমরা বিনা অনুমতিতে আমরা করতে পারি না । আর অনুমতিও পাওয়া যায়না । মিললেও ১০ টার পর আর মাইক বাজাতে পারবে না । তাও ভিতরে ভিতরে । ১০ টার পর মাইকের আওয়াজ মসজিদের মধ্যেই থাকতে হবে,মসজিদের বাইরে যেন না যায় । এই পরিস্থিতিতে আমরা উত্তরপ্রদেশের লোকেরা আছি ।
আজানে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে । কেউ জোরে জোরে আজান পড়ে দেখুক ।
তিনি বলেন,বাংলাকেও কি আপনারা একই রকম বানাতে চান ? একই পরিস্থিতির মধ্যে আনতে চান আপনারা ? এটা আপনাদের ভেবে দেখতে হবে ৷ দুরদর্শিতা…আপনারা অনেক দুরদর্শি, বাংলার মানুষের প্রতি আমার সর্বদা ভরসা আছে যে তারা দুরদর্শি ৷ আমার মত লোকেরা মনে করে যে নিরাপত্তা যদি থেকে থাকে তা একমাত্র বাংলায় আছে । কারোর যেন নজর না লাগে ।
জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করেছেন৷ এতে বিভিন্নজন বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন৷ কৃষাণ চৌধুরী লিখেছেন, ‘উত্তর প্রদেশের মুসলিমরা, অর্থাৎ আনসারির মতো মানুষ, তখনই নিরাপদ থাকতে পারবে যখন অখিলেশ যাদব আসবেন, তখনই তাদের গুন্ডামি এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। যোগীজিকে ভয় পাবেন কারণ আপনি যদি আপনার চর্বি দেখান, তাহলে আপনার চর্বি সরে যাবে, যদি আপনি এটি করেন তবে আপনি যমরাজকে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পাবেন, তাই অবশ্যই ভয় পাবেন কারণ আপনি অরাজকতা ছড়াতে পারবেন না এবং এটি এই লোকদেরই কাজ।’
আকাশ লিখেছেন,’মৌলানা সাদিক আনসারী অবশ্যই উত্তরপ্রদেশে ভয় পাবেন কারণ তার কাজ ছিল অরাজকতা, সন্ত্রাস এবং হিন্দুদের গণহত্যা ছড়ানো, যোগীরাজ্যে এমনটা হবে না, যদি তুমি তা করো তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে, এখন অখিলেশজির আসার অপেক্ষা করো যাতে সে তোমার খারাপ কাজে তোমাকে সাহায্য করতে পারে, সে নিজেই একজন সন্ত্রাসী নেতা।’
কপিল গৌড় লিখেছেন,’মসজিদের লাউডস্পিকারের আওয়াজ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই মৌলানা সাহেব রাজ্যজুড়ে অনিরাপদ বোধ করতে শুরু করলেন। এটা “ভয়” নয়, ডেসিবেল কমে যাওয়ার কথা। আর অনুমতির ক্ষেত্রে, নিয়ম সকলের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু হয়তো মৌলানা সাহেব “অনুমতি না নেওয়ার” পুরনো দিনের কথা মনে করছেন। তিনি আমাদের বাংলায় এমনভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন যেন আমরা স্বর্গের টিকিট পাচ্ছি, রেশন কার্ড নয়!’ তিনি আরও লিখেছেন,’যাই হোক, উত্তর প্রদেশে সিস্টেম আপডেটের পর থেকে কিছু লোক নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস হারিয়ে ফেলেছে। এখন, মাওলানা সাহেব তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার এবং বাংলায় একটি নতুন প্রোফাইল তৈরি করার কথা ভাবছেন। মনে রাখবেন, বাংলা হল এমন একটি জায়গা যেখানে খেলাটি খেলা হয়, এবং উত্তর প্রদেশে যারা খেলে তারা ধ্বংস হয়ে যায়।’
মাওলানা জারজিশ আনসারির উস্কানিমূলক মতামতের সত্যতা যাচাই করেছে আজ তক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,এনসিআরবি তথ্য দেখায় যে বাংলার তুলনায় উত্তর প্রদেশে কম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে! এরপরেও যোগীর শাসনে কি উত্তর প্রদেশের ২০% মুসলিম নিরাপদ নয়? এই প্রশ্ন তুলেছে ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি৷
উল্লেখ্য,এই সেই মাওলানা জারজিস আনসারি, যিনি ২০২৪ সালে একটি ধর্মীয় সভায় বলেছিলেন, “অন্যের বোনকে বিয়ে করা মানুষের জন্য বোকামি, যখন সে নিজের বোনকেই বিয়ে করতে পারে। একজন বোন তার ভাইকে খুব ভালোভাবে চেনে। সে তার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা সম্পর্কে জানে। সে সুন্দরী ও আকর্ষণীয়। তাই একজন পুরুষের উচিত নিজের বোনকে বিয়ে করা।” ফিলিস্তিনের সমর্থক কট্টর ইসলামি এই মাওলানার ইউপির মুসলিমদের পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়ার পরামর্শ নিয়ে একজন মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ।।

