প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৫ ফেব্রুয়ারী : ভোটের মুখে একটা চারচাকা গাড়ি থেকে ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে বর্ধমান জেলা পুলিশ । আর এই ঘটনার পর রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে বালি খাদানের মালিকদের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর নাম জুড়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় । আর এরপরেই বিজেপি সাংসদ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক “খোকন দাসের চামচা” বলে অবিহিত করেছেন । বিষয়টি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে গেছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,দুর্গাপুরের দিক থেকে বর্ধমানের দিকে আসা একটি সাদা রঙের চারচাকা গাড়িকে বুধবার বিকেলে রেনেসাঁ উপনগরীর গেটের কাছে আটকে তল্লাশি চালায় পুলিশ । গাড়িটির পিছনের সিটের তলা থেকে নগদ ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয় বলে পুলিশের দাবি । পুলিশের আরও দাবি,টাকার উৎস বিষয়ে গাড়িতে থাকা দুই আরোহী সৌরভ ঘোড়ুই ও বাপন হাঁসদা একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা সংগ্রহের কথা জানালেও বিস্তারিত কিছু বলতে চায়নি । এর পরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযানে নেমে বুধবার বিকালে বর্ধমানের রেনেসাঁ এলাকায় একটি চারচাকা গাড়ি আটকায় ।তল্লাশিতে ওই গাড়িটি থেকে উদ্ধার হয় ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা পাওয়া যায়। ওই টাকার উৎস জানতে গাড়িতে থাকা বাঁকুড়ার ওন্দার বাসিন্দা সৌরভ ঘোড়ুই এবং বাপন হাঁসদাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
সাংবাদিক বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন,জেরায় ধৃত সৌরভ ঘোড়ুই এবং বাপন হাঁসদা বলেছে,পূর্ব বর্ধমান ও তার লাগোয়া জেলার বালিঘাট থেকে তারা টাকা সংগ্রহ করেছে । হৃদয় পাল নামে এক ব্যক্তি যিনি
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁনের পিএ, তিনিই তাঁদেরকে বালিঘাট থেকে টাকা সংগ্রহ করতে পাঠিয়ে ছিলো।’ তিনি বলেন,’টাকার উৎস জানতে দুই ধৃতকে আরো জেরার প্রয়োজন রয়েছে । তাই দুই ধৃতকে বৃহস্পতিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে ১০দিন পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে ৷’
এদিকে টাকা উদ্ধারের পর বালিঘাটের মালিকদের সঙ্গে নাম জড়ানোয় চরম ক্ষিপ্ত হন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ৷ তিনি এইদিন-কে ফোনে বলেন,’অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের চামচা ।’ তিনি এও বলেন,’হৃদয় পাল নামে আমার কেউ পিএ নেই ।’ পাল্টা একগুচ্ছ প্রশ্ন সামনে এনে সৌমিত্র খাঁ বলেন,’যে দুটি ছেলে ধরা পড়েছে তাঁদের সঙ্গে বা ওই বালি খাদানের লোকজনকে ফোন করে আমি কোনদিনও কথা বলেছি এমন কোন প্রমাণ কি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পেয়েছেন ? যে বালি খাদানের লোকজন টাকা দিয়েছে বলা হচ্ছে তারাও কি সৌমিত্র খাঁর সঙ্গে কথা বলে টাকা দিয়েছে ? যাঁদের কাছ থেকে ওই দুই যুবক টাকা নিয়েছে,তাদের নামে বালি খাদানের লোকজন কেন এফআইআর করলো না? বালি খাদান এর যাঁরা টাকা দিল তাঁরা কি দু নম্বরি ব্যবসা করে?’ সৌমিত্র খাঁ বলেন,আসলে আমি ভোট করাতে জানি।বিধানসভা ভোটের জন্য আমি বর্ধমান বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছি। তাতেই গাত্রদাহ হয়েছে। সেই কারণেই সৌমিত্র খাঁয়ের গায়ে কালি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দাবির বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ডিফর্মেশনের মামলা করবেন বলে সৌমিত্র খাঁ এদিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।।

