এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ ফেব্রুয়ারী : ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তার পেশ করা ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বৃদ্ধি । আশা-আইসিডিএস ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পের অধীনে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি । শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান বৃদ্ধির কথা ফেব্রুয়ারিতে বলা হলেও বাকিগুলি কার্যকর হতে আরও ৪-৫ সময় লাগবে । যেকারণে প্রশ্ন উঠছে যে আজ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত প্রকল্পগুলি আদপেই কি কার্যকরী হবে ?
কেন এই প্রশ্ন উঠছে, তার কারন ব্যাখ্যা করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মমতা ব্যানার্জির বাজেট পেশের পর বিধানসভার গেটের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এর কারন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন,’এপ্রিল মাস থেকে কোন প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা সম্ভব নয় । কারণ ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরোনোর যে কোন সময় মোরাল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু হয়ে যাবে। মোরাল কোড অফ কন্ডাক্ট-এর নিয়মই হচ্ছে বেনিফিটের অ্যামাউন্ট বাড়েনা এবং বেনিফিশিয়াডিরির সংখ্যাও বাড়ে না । মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়েছেন সেগুলো কোনটাই কার্যকর হওয়া সম্ভব নয় । এটা চার মাসের অন্তবর্তী ভোট অন অ্যকাউন্ট৷’
মুখ্যমন্ত্রী আজ রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য এক নতুন প্রকল্প ‘বাংলার যুব সাথী’ ঘোষণা করেন। এই প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক ভাতা পাবেন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনকারীকে নূন্যতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে । আগামী নির্বাচনে বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প রাজ্যজুড়ে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে মূলত ৫ বছর এই ভাতা রাজ্য সরকার দেবে। তারপর আর দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে৷ এদিকে এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে প্রতারণা হিসাবে দেখছেন বিরোধী দলনেতা ।
তিনি বলেন,’যুবশ্রীর নামটা বদলে যুব সাথী করেছে। পনেরশো টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলেছেন । অথচ এই মুখ্যমন্ত্রীর আমলে ডক্টর অমিত মিত্রর পেশ করা বাজেটে বেকার যুবকদের জন্য যুবশ্রীর কথা বলা হয়েছিল৷ পোর্টাল চালু করার কথা বলা হয়েছিল । বেকার ভাতার কথা বলা হয়েছিল । এক কথায় বেকার যুবকদের সঙ্গে জাগলারি-মিথ্যাচার-প্রতারণা উনি করেছেন ।’
তিনি বলেন,’এই বাজেটে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই । বেকার বিরোধী বাজেট। চাকরির কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই । কন্ট্রাক্টচ্যুয়াল লোকেরা, শুধুমাত্র আশা-আইসিডিএস-ভিলেজ পুলিশ নয়, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ভিলেজ রিসোর্স পার্সেন প্রভৃতি যারা কন্ট্রাক্টচ্যুয়াল কর্মী রয়েছেন তাদের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি নেই৷ কেবলমাত্র লক্ষ্মীর ভান্ডার ফেব্রুয়ারি মাসে কার্যকর করার কথা ছাড়া এই বাজেট আমরা বলতে পারি কার্যত দিশাহীন এবং একটা মিথ্যা দলিল৷ এতেই রাজ্যকে অনেকটাই পিছিয়ে দেবে ।’
যদিও তৃণমূলপন্থী মিডিয়া মমতার এই বাজেটকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসাবে দেখছে । তাদের কথায় লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান বৃদ্ধি ও যুব সাথী প্রকল্প ‘তৃণমূলের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে’ । এখন দেখার বিষয় তৃণমূলের “ভাতার রাজনীতি” এবারে তাদের ভোটের বৈতরণী পার করে কিনা ।।

