প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৪ ফেব্রুয়ারী : মাধ্যমিক পরীক্ষা চালাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে স্মার্টফোন নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় স্কুল পরিদর্শককে (SI) বেদম পেটানোর অভিযোগ উঠেছিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৮ শিক্ষক ও করনিকের বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আঝাপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার বিশ্বাসসহ ৮ জন শিক্ষককেই এসআই প্রশান্ত কবিরাজের অভিযোগের ভিত্তিতে সাসপেন্ড করলেন জেলা স্কুল পরিদর্শক । যদিও সাসপেন্সনের পরেও দমে যাননি প্রধান শিক্ষক । এসআই অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আঝাপুর স্কুলের এক শিক্ষক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী মিতালী দেবী তার বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় পালটা অভিযোগ দায়ের করেছেন । দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ । এদিকে স্কুল পরিদর্শক বনাম আঝাপুর স্কুলের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে তোলপাড় পড়ে গেছে জেলা জুড়ে ।
মঙ্গলবার মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা চালাকালীন নজিরবিহীন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এসআই প্রশান্ত কবিরাজ ও প্রধান শিক্ষক সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬ শিক্ষক ও স্কুলের একজন করনিক । পরীক্ষা চলাকালীন করণিকের মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে আসায় বিবাদের সূত্রপাত । এসআই এনিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন মিলে তাকে বেদম পিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ । স্কুলের ভিতরে এই নজিরবিহীন মারপিটের ঘটনায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরীক্ষার্থীরা ।
ঘটনার পর আহত স্কুল পরিদর্শক প্রশান্ত কবিরাজ জামালপুরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরে তাকে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় । এই নজিরবিহীন ঘটনার খবর কানে যেতেই নড়ে চড়ে বসেন জেলা স্কূল পরিদর্শ (সেকেন্ডারি) দেবব্রত পাল। আজ বুধবার তিনি বলেন,’স্কুল পরিদর্শক (SI) কে মারধোর করার ঘটনায় আঝাপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং এক করণিক সহ আটজনকে সাসপেণ্ড করা হয়েছে।’
এদিকে আজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার বিশ্বাসের সাথে জামালপুর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী মিতালী দেবী । তাঁর কথায়, ‘আমার স্বামী সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় আঝাপুর স্কুলের শিক্ষক । ২০২৪ সালে ওনার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে । সেটা জানা সত্ত্বেও মঙ্গলবার স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন স্কুল পরিদর্শক মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার স্বামীর বুকে মারেন। সেই কারণে তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে মেমারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয় ।’ তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মিতালী দেবী দাবি করেছেন।’
এদিকে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘটা এই বেনজির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তর্জা । জেলা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন,’তৃণমূল শাসনে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে যে ভেঙে পড়েছে,তারই নিদর্শন আঝাপুর স্কুলের ঘটনা ।’ অনেকটা একই সুরে সিপিএম নেতা অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেন,’মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষাকেন্দ্রে এইরকম ঘটনা ঘটা তৃণমূলের শাসনেই সম্ভব ।’ যদিও বিরোধীদের কটাক্ষকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন,’আঝাপুর স্কুলে হওয়া ঘটনায় ৮ জন শিক্ষক অশিক্ষক কর্মীকে ইতিমধ্যেই সাসপেণ্ড করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে । দোষীরা কেউ রেয়াত পাবেন না।’।

