প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৩ ফেব্রুয়ারী : করণিক ফোন সঙ্গে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র বেধে গেল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে । আর এনিয়ে বচসা থেকে তুমুল হাতাহাতিতে জড়ালেন স্কুল পরিদর্শক (SI) ও অন্য শিক্ষকরা । শিক্ষকরা মিলে এসআই-কে বেদম পিটিয়ে দেয় স্কুলের শিক্ষকরা । পালটা মারে আহত হয়েছেন এক শিক্ষকও । এদিকে পরীক্ষায় বসার আগে শিক্ষকদের এই প্রকার রুদ্ররূপ দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে । হতভম্ব হয়ে যান অবিভাবরা । আক্রান্ত স্কুল পরিদর্শক এনিয়ে হামলাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জামালপুর থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন । তবে এখনো পর্যন্ত পালটা অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে । তবে শিক্ষকরা মিলে ঘটনার পর পথ অবরোধও করে শিক্ষকরা ৷ এসআই-এর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ ।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র হিসাবে এবছরও আঝাপুর হাই স্কুলকে নির্দিষ্ট করে। ছয়টি স্কুলের ৫৬৭ জন পরীক্ষার্থীর সিট পড়ে এই স্কুলে । তিনজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় ৫৬৪ জন পরীক্ষার্থী সোমবার থেকে এই স্কুলে পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেছে। জানা গেছে,পরীক্ষা নিয়ম মেনে চলছে কি না দেখতে আজ মঙ্গলবার পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন জামালপুর (পূর্ব চক্র)-র স্কুল পরিদর্শক তথা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) প্রশান্ত কবিরাজ। তিনি জানান,এদিন তিনি যখন আঝাপুর হাই স্কুলে ছিলেন,তখন তাঁর সামনেই প্রধান শিক্ষকের পাশের ঘর থেকে মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। নিয়ম অমান্য করে পরীক্ষাকেন্দ্রে ফোন নিয়ে যাওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন। আর তার এই অপরাধে স্কুলের সাত-আটজন শিক্ষক তাঁর উপর চড়াও হয় । তাদের মারধরে জখম হয়ে তিনি প্রথম আঝাপুরের একটি নার্সিং হোম চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।পরে স্থানান্তর হয়ে বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানান। অপর আর একজন শিক্ষক বর্ধমান মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন বলে জানা যাচ্ছে।
পাল্টা অভিযোগে আঝাপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অসীম কমার বিশ্বাস জানান,তার স্কুলের একজন করণিক ভুল করে এদিন মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে চলে এসেছিলেন। ফোন টি অফিসের ড্রয়ারে ভরো রাখা ছিল। তবুও তা নিয়ে পরীক্ষা চলাকালীন চুড়ান্ত অশান্তি বাধান স্কুল পরিদর্শক। স্কুল পরিদর্শকের মারে স্কুলের একজন শিক্ষক সঞ্জিত দাস গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এতকিছু ঘটনা ঘটলেও পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন।
এদিকে এই ঘটনা জানতে পারার পরেই স্কুল পরিদর্শকের অধীনস্ত স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষক প্রতিবাদ জানাতে মেমারি-তারকেশ্বর রোড অবরোধ করেন। একই সময়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার জেলার মনিটরিং কমিটি আঝাপুর স্কুলে তদন্তে যান। কমিটির তরফে কনভেনার অমিত কুমার ঘোষ বলেন, মূল ঘটনার সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাঁরা দেখতে পাননি। শিক্ষকরা তাঁদের কাছে দাবি করেছেন, ওই স্কুল পরিদর্শককে কার্যত ফেলে মারা হয়েছে। স্কুল পরিদর্শক আহত হয়ে অনাময় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।ওই মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে পরীক্ষার ভ্যেনু ও সেন্টার ইনচার্জকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্ট মধ্যশিক্ষা পর্ষদে পাঠানো হবে। আমাদের রিপোর্টও পর্ষদে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত পাল বলেন, “আমরাও পর্ষদের রিপোর্ট পাঠাচ্ছি। সেখান থেকে যেমন নির্দেশ আসবে, সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে,পরীক্ষা কেন্দ্রের সেন্টার -সচিব, পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক,ভ্যেনু সুপারভাইজার ও অতিরিক্ত ভ্যেনু সুপারভাইজারার ছাড়া অন্য কারোর মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অধিকার নেই৷ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না।তারপরেও আঝাপুর হাইস্কুলের একজন করণিক কি করে মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে ঢুকেছিলেন সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।।
