এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৩ ফেব্রুয়ারী : কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছিল অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে । তার অভিযোগ, খাসির মাংসের পদ অর্ডার করা হলেও তাদের গোমাংসের পদ পরিবেশন করা হয় । তার অভিযোগের ভিত্তিতে খাবার পরিবেশন করা রেস্তোরাঁর বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয় । তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় (কোনও শ্রেণির ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত করা) মামলা রুজু হয়েছিল । শনিবার সকালে শেখ নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তোলা হলেও জামিন পাননি তিনি। বদলে তিন দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয় । এদিকে সিপিএম সহ কথিত ধর্মনিরপেক্ষরা রেস্তোরাঁর বেয়ারার মুক্তির পাশাপাশি সায়ক চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয় । যদিও গ্রেপ্তারির ৪ দিনের মাথায় জামিন পেলেন ধৃত শেখ নাসির উদ্দিন ৷ এই ঘটনাক্রমের মাঝে গত রবিবার সোশাল মিডিয়ায় বিবৃতি জারি করে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেয়ারার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করেন সায়ক চক্রবর্তী ।
তবে বেয়ারা জামিন পেলেও সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানির দেওয়ার অভিযোগে অভিনেতা- ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শনিবার রাতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন জয়রাজ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি । সায়কের বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগে তার দাবি, এই ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ আহমেদ মন্ডল তালতলা থানায় পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন । সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অভিযোগপত্রটি এখন ঘুরছে । সেই অনুযায়ী অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু হল : “পশ্চিমবঙ্গের ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষার জন্য সায়ক চক্রবর্তী ও তার টিমকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে,আমরা পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আপনাকে জানাতে চাই, বাংলার শান্তি, সম্প্রীতি আর ভাইচারা আমাদের কাছে খুবই প্রিয়। এখানে হিন্দু-মুসলিম- খ্রিস্টান সবাই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একসঙ্গে ভাইয়ের মতো থেকেছে এটাই আমাদের গর্ব।পার্ক স্ট্রিটের Olypub-এর ঘটনা (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) আমাদের খুব চিন্তিত করেছে। একটা ছোট সার্ভিসের ভুলকে ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী ভিডিও করে খুব বড় করে তুলে ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন। এতে সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ আর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তৎক্ষণাৎ ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে মিটিয়ে নিতে চেয়েছে। তবুও ওয়েটার শেখ নাসিরউদ্দিনকে গ্রেফতার করে জেলে রাখা হয়েছে, কিন্তু যে ভিডিওটা উত্তেজনা ছড়িয়েছে তার বিরুদ্ধে এখনও তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আমরা মনে করি, এ ধরনের কাজ বাংলার পবিত্র ভাইচারাকে ভাঙার চেষ্টা। এটা চলতে দিলে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তোলা সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যাবে।তাই আমরা সম্মানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি: ১. সায়ক চক্রবর্তীর ভিডিও, কথাবার্তা ও আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা থাকলে দ্রুত তাকে অ্যারেস্ট করা হোক।২. শেখ নাসিরউদ্দিনের মামলার দ্রুত পর্যালোচনা করে, যদি ইচ্ছাকৃত কোনো অন্যায় না থাকে তাহলে তাঁকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্তি দেওয়া হোক।৩. এবং যত দ্রুত সম্ভব ঐতিহ্যপূর্ণ রেস্তোরাঁটি পুনরায় খোলা হোক।আপনার ন্যায়বিচার ও বাংলার ঐক্য রক্ষার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। এখনই ন্যায়সঙ্গত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিলে আমাদের রাজ্যের আত্মা রক্ষা পাবে।
যদিও চলতি বিতর্কে ইতি টানতে বিবৃতি জারি করে ক্ষমা চেয়েছিলেন সায়ক চক্রবর্তীও। তবে তার বিরুদ্ধে এফআইআর এখনো বহাল আছে ।।

