এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ জানুয়ারী : কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ডেকরেটার্সের গোডাউন ও মোমো কারখানা থেকে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৩ জনের দেহাংশের উদ্ধার হয়েছে । এখনো অন্তত ২৫ জন নিখোঁজ । আজ বিকেলে দলীয় বিধায়কদের সাথে আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মীভূত এলাকার পরিদর্শনে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । সাক্ষাৎ করেন স্বজনহারা পরিবারগুলির সাথেও। কিন্তু এতবড় ঘটনার পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে না যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি । শুভেন্দু বলেন,’মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি থেকে নাজিরাবাদের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার । কিন্তু তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি । ওনার আসা উচিত ছিল ।’ যদি হিন্দুরা না মরে রোহিঙ্গারা মরত তাহলে উনি আসতেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি ।
নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ৷ তিনি বলেন,’কলকাতায় যে এক একটা জতুগৃহ তৈরি হয়েছে, তার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও স্থানীয় থানাগুলি দায়ি । এখানে যে গোডাউনটা ভাড়া দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে দেড় লাখ টাকা মাসিক ভাড়া পায় । তার মধ্যে প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা এখানকার বিধায়কের প্রতিনিধির হাতে দিয়ে দেন গোডাউন মালিক । না আছে লাইসেন্স, না আছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জলের ব্যবস্থা । এতবড় মৃত্যু মিছিল,তারপরেও মুখ্যমন্ত্রীর সরকার ভাবলেশহীন ।’
তিনি রাজ্যের দমকলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন । শুভেন্দু অধিকারীর প্রশ্ন,’কেন দমকলমন্ত্রী তার দায়িত্ব স্বীকার করে ইস্তফা দেবেন না ? কেন মুখ্যমন্ত্রী এখানে আসবেন না ? কেন ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন না? যাকে তাকে চাকরি দেন, এদের চাকরি ঘোষণা করবেন না কেন ?’ তিনি বলেন,’পুলিশের জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে । একটা জলাভুমি বুজিয়ে কেন এসব হবে ? মাননীয়া বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলা এখনো চলছে । সবাই জানে এটা জলাভূমি। এই জলাভূমি গত কয়েক বছর ধরে বোজানো হয়েছে । দেদার বিক্রি হয়েছে এবং মাসে মাসে তোলা তোলা হয়েছে ।’ শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন গতকাল দুর্গাপুরে দলীয় কর্মসূচিতে থাকার সময়েই তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মীভূত এলাকা পরিদর্শন করবেন । আর তারপরেই তাকে আটকাতে পুলিশ তড়িঘড়ি এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে দেয় । তিনি বলেন,’মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এসেছেন । অরূপ বিশ্বাস এসেছেন । সুজিত বোস ৩২ ঘন্টা পরে এসেছেন । তৃণমূলের অনান্য কাউন্সিলররা এসেছেন । কাউকে বাধা দেয়নি । আমি কালকে দুর্গাপুর থেকে বলেছি ২০ জন বিধায়ককে নিয়ে দূর থেকে পরিদর্শন করব । কিন্তু রাত্রিবেলাতেই ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে দিয়েছে পুলিশ আমাদের আটকানোর জন্য । এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক । পুলিশকে ফর দ্য পার্টি,বাই দ্য পার্টি অফ দ্য পার্টি চালানো হচ্ছে ।’ রাজ্যের মন্ত্রীদের অনুমতি দেওয়া হলেও ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধী দলনেতাকে কেন আসতে দেওয়া হবে না সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি । পাশাপাশি তিনি জানিয়েছে যে হাইকোর্টের অনুমতিক্রমে তারা কলকাতায় শুক্রবার মিছিল করবেন।।

