আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার একটা বক্তব্যের ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘মিঁয়াদের (বাংলাদেশি মুসলিমদের বিদ্রুপ করে ‘মিঁয়া’ বলা হয় আসামে) যত পারো উৎপাত করো । আমি বিজেপি কার্যকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি মিঁয়াদের দেখলেই ফর্ম-৭(সন্দেহজনক ভোটার) যত খুশি জমা দাও ।’ এদিকে হেমন্ত বিশ্বশর্মার এই বক্তব্যে বেজায় চটেছেন বামপন্থী পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’-এর মৌলবাদী সাংবাদিক আরফা খানুম শেরওয়ানি । তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন,আমি বিজেপির কার্যকর্তাদের বলেছি,যত খুশি মিঁয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান ৷ এতে কোনো লুকোছাপা নেই ৷ আমি মিটিং করেছি,ভিডিও কনফারেন্স করে বলেছি যে যত খুশি ফর্ম জমা দাও । তাতে তারা দৌড়াদৌড়ি করে,বুঝতে পারে যে অসমিয়া জাতি জেগে উঠেছে । এতে কংগ্রেসের আপত্তি থাকলে থাকতে পারে । তাতে আমি কি করতে পারি ?’
তিনি বলেছেন,’ওরা যা খুশি করুক । তারা কী করবে, সর্বোচ্চ মামলা করবে, আসাম পুলিশ বিষয়টি দেখবে। মিঁয়াকে তো কষ্ট দেওয়া হবে । যদি তুমি মিঁয়া মুসলিমের রিকশায় চড়ো, আর সে যদি ৫ টাকা ভাড়া চায়, তাহলে তাকে ৪ টাকা দাও ।’ তিনি বলেন,’হেমন্ত বিশ্বশর্মা আর বিজেপি সরাসরি মিঁয়াদের বিরুদ্ধে । আমার কোনো লুকোছাপা নেই । আগে হলে হয়ত সঙ্কোচ হত । কিন্তু এখন আমি মিঁয়াদের কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি উৎসাহিত করব । কষ্ট না দিলে ওরা বুঝবে না । ওরা আপনার বাড়িতেও লাভ জিহাদ করবে ।’
হেমন্ত বিশ্বশর্মা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আসামের সমাজে ধর্মীয় মেরুকরণ হয়ে গেছে । আগামী ৩০ বছর রাজ্যে আমরা মেরুকরণের রাজনীতি করব । তুমি চলে যেতে চাইলে যেতে পারো অথবা আত্মসমর্পণ করতে পারো । কিন্তু একজন আসামিজ হিসাবে আত্মসমর্পণ করব না । আমি লড়ব এবং মেরুকরণ করব । কিন্তু মেরুকরণ মানে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে নয় । মেরুকরণ মানে আসামিজ এবং বাংলাদেশিদের মধ্যে । এটাই পার্থক্য ।’ তিনি বলেন,’আমরা আসামিজ মুসলমানদের সঙ্গে লড়াই করছি না । আমাদের একমাত্র লড়াই বাংলাদেশি মুসলমানদের বিরুদ্ধে । এতে সমস্যা কোথায় ? সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বলে দিয়েছে এখানে অনুপ্রবেশ হচ্ছে । যদি সুপ্রিম কোর্টের কথামত এখানে অনুপ্রবেশ হয়,তাহলে তোমার ভূমি রক্ষা করার অধিকার আছে । যেটা আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছি । আমি আইনত সঠিক, নৈতিকভাবে সঠিক এবং রাজনৈতিক ভাবেও সঠিক ।’ তিনি বলেন,’আর আগে যদি আমার মত মুখ্যমন্ত্রী থাকত তাহলে এই পরিবেশের সৃষ্টিই হত না । অনেক আগেই আমি টাইট করে দিতাম ।’
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বামপন্থী পোর্টাল ‘দ্য ওয়্যার’-এর মৌলবাদী সাংবাদিক আরফা খানুম শেরওয়ানি এক্স-এ লিখেছেন,’এই দেশে কি সুপ্রিম কোর্ট আদৌ কাজ করছে? কেন এটি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং নিশ্চিত করছে না যে এই মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে দেশের আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়? একটি সাংবিধানিক পদে বসে তিনি প্রকাশ্যে এই যুক্তি দিচ্ছেন যে কেন মুসলমানদের প্রতি বৈষম্য করা উচিত এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালানো উচিত। তিনি অন্যদেরও এমনটা করতে উস্কানি দিচ্ছেন। এই লজ্জাজনক নেতা আসামকে হিটলারের জার্মানিতে পরিণত করছেন।’।

