এইদিন ওয়েবডেস্ক,পশ্চিম মেদিনীপুর,২৭ জানুয়ারী : কলকাতার রুবি হাসপাতালের পিছনে আনন্দপুরের নাজিরাবাদের মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানা এবং ডেকরেটার্সের গুদামে ভয়াবহ আগুনে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে । তবে মৃতের প্রকৃত সংখ্যাটা এখনো অজানা । রবিবার মাঝরাতের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৪০ ঘন্টা পার হলেও আজ মঙ্গলবার সকালেও রেশ কাটেনি । এদিকে ওই আগুনে মৃত্যু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার মালিগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ৩ যুবকের । কৃষ্ণেন্দু ধাড়া, অনুপ প্রধান ও বিশ্বজিৎ সাউয়ের দেহের কোনো চিহ্নই মেলেনি । ফলে স্থানীয় পুলিশের আহ্বানে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আজ মঙ্গলবার আনন্দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিন যুবকের বাবা-মা । তিন তরতাজা যুবকের এই মর্মান্তিক পরিনতির পর গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ ।
জানা গেছে,কৃষ্ণেন্দু ধাড়া,অনুপ প্রধান ও বিশ্বজিৎ সাউসহ পিংলার মালিগেড়িয়া গ্রামের ৪ যুবক আনন্দপুরের আগুনে ভস্মীভূত ডেকরেটার্সের অধীনে ফুলের ডেকরেশনের কাজ করতেন । বছর ত্রিশের ওই যুবকদের মধ্যে একমাত্র বিশ্বজিৎ ছাড়া সকলেই বিবাহিত । কৃষ্ণেন্দু ধাড়ার স্ত্রী ও ৯ বছরের সন্তান আছে ৷ স্ত্রী, ২ বছরের সন্তান,বাবা-মা ও এক দিদিকে নিয়ে সংসার অনুপ প্রধানের । প্রত্যেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল সদস্য ছিলেন ।
জানা যায়,পৌষ সংক্রান্তির এক দিন পর মালিগেড়িয়া গ্রামের ৪ যুবক আনন্দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন । তাদের মধ্যে একজন শনিবার বাড়ি ফিরে আসেন । বাকি তিনজন আনন্দপুরেই ছিলেন । অনুপ প্রধানের দিদি বলেন,’রবিবার গভীর রাতে ভাইয়ের বাড়ি ফিরে আসা বন্ধু আমাদের বাড়ি আসে । সে ভাইকে ফোন করতে বলে । আমরা তার কথা শুনে ভাইকে ফোন করি । কিন্তু বারবার ফোন করেও ভাই ফোন রিসিভ করেনি । এরপর অনেক খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি নাজিরাবাদের আগুন লাগার কথা ।’ তিনি ওইদিন সন্ধ্যায় ভাইয়ের সঙ্গে তাদের সবার কথা হয়েছিল।
কৃষ্ণেন্দু ধাড়ার শাশুড়ী মীরা মণ্ডল বলেন,’রবিবার রাতে ফোন করে সকলের খাওয়া দাওয়া হয়েছে কিনা জানতে চায় কৃষ্ণেন্দু । আমার মেয়ের সঙ্গেই অনেকক্ষণ কথা হয় । কিন্তু পরে টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নাজিরাবাদের আগুন লাগার কথা জানার পর জামাইকে বারবার ফোন করেও আর পাওয়া যায়নি ।’
জানা যায়,নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পরেই সোমবার ভোরে গাড়ি ভাড়া করে ছোটেন পরিবার পরিজন । তারা ভস্মীভূত ডেকরেটার্সের গুদামের চারপাশে তাদের হন্নে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেন । পরে পুলিশ তাদের জানায় যে তিন যুবকের কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি । গুদামের মধ্যে অবশেষ দেহাংশ চিহ্নিত করার জন্য আজ পরিবারের ডিএনএ টেস্ট করছে পুলিশ ।।

