এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ জানুয়ারী : কলকাতার রুবি হাসপাতালের পিছনে আনন্দপুরের মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানা এবং ডেকরেটার্সের গুদামে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে । তবে প্রকৃত সংখ্যাটা এখনো অজানা । রবিবার মাঝরাতের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পর প্রায় ৪০ ঘন্টা পার হলেও আজ মঙ্গলবার সকালেও রেশ কাটেনি । অভিযোগ, রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে বহু লাশ! কয়েকটা মাথার খুলি ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পায়নি দমকল বিভাগ!
আজ সকালেও দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিনকে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে । গুদামটিতে প্রচুর পরিমাণে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার এবং পাম অয়েল মজুত থাকায় আগুনের তীব্রতা কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দমকল বিভাগের অনুমান। সোমবার সন্ধ্যায় আর্থ মুভার মেশিন এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হলেও, ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছেন পরিজনরা। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজদের হদিশ না মেলায় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীর আত্মীয়রা । প্রশাসনের ভূমিকায় তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ।
এদিকে সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা বাইক কিন্তু দেহ নেই ! বাইরে থেকে কে তালা লাগলো ওই গুদামে! মাঝ রাতে আগুন লাগলেও আধুনিক দমকলবাহনী এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো না! দেওয়াল ভেঙে বাইরে আসার চেষ্টা করেও পারেনি ভিতরে থাকা লোকজন! জতুগৃহের ভিতরে এখনো নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় তিরিশ! কি করে নিখোঁজ ? জবাব নেই দমকল বা পুলিশের কাছে ! পাশাপাশি কীভাবে একটি কারখানায় এত পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা আদৌ ছিল কি না, তা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠছে ।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদ একটার পর একটা গোডাউন আজ ধ্বংসস্তূপ। আগুন শুধু ইট-পাথর পোড়ায়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে মানুষের জীবন, স্বপ্ন, পরিবার। নিখোঁজদের পরিবারগুলো পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে । কেউ বাবাকে, কেউ ছেলেকে, কেউ স্বামীকে নাম ধরে ডেকে চলেছে ধ্বংসস্তূপের সামনে । শুধু পোড়া মাংসের গন্ধ, আর অসহায় নীরবতা । নাজিরাবাদ আজ মূর্তিমান শ্মশান ।।

