এইদিন স্পোর্টস নিউজ,২৭ জানুয়ারী : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান- এমন বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার ইউরোপীয় অঞ্চলের আটটি দেশের ওপর শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট। প্রতিবাদে থেমে থাকেনি ইউরোপও। জার্মানির রাজনীতিবিদেরা পাল্টা হুমকিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে জার্মানি।
জার্মানির দেখানো পথে এবার বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক এসেছে নেদারল্যান্ডস থেকেও। দেশটির জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রডিউসার টেউন ফন দে কুকেন আসন্ন বিশ্বকাপ হতে নেদারল্যান্ডস দলকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি একটি অনলাইন পিটিশন করেছেন এ প্রডিউসার। সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
তা ইউরোপ থেকে কেন ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক আসছে? ট্রাম্প ঠিক কী বলেছিলেন? গত সপ্তাহে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে বলপ্রয়োগ করবেন না। তবে তার ঠিক আগের বক্তব্যেই তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমি অতিরিক্ত শক্তি ও বল প্রয়োগের সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা কিছুই পাব না— সেক্ষেত্রে আমরা, সত্যি বলতে, অপ্রতিরোধ্য হব।’
ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের দখল নিয়ে ট্রাম্পের এমন আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে ইউরোপে। আসতে থাকে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক। এবার সে তালিকায় যোগ হয়েছে নেদারল্যান্ডসের নাম।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেউন ফন দে কুকেন বলেছেন, ‘ক্রীড়া সংস্থাগুলো প্রায়ই বলে, তারা রাজনীতি ও খেলাধুলা আলাদা রাখতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো— রাজনীতি ইতোমধ্যেই ঢুকে পড়েছে, আর তখন আপনাকে অবস্থান নিতেই হয়।’
জার্মান প্রডিউসারের বিশ্বাস, ট্রাম্পের এমন কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য তিনি তাঁর পিটিশনকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান, ‘এই বয়কটের ধারণাটি এখন আমার মতো ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়। আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কারণ বিশ্বকাপ না হলে সেটা ক্রীড়াজগতের বড় একটা ক্ষতি— আমি নিজেও বিশ্বকাপ ভালোবাসি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতিটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’।

