বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। ১৯৭৭ সালে তারা আইসিসি-র সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে। ২০০০ সালে তাদের টেস্ট মর্যাদা এবং আইসিসি-র পূর্ণ সদস্যপদ প্রদান করা হয় । তবে এই অগ্রগতি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়নি। অস্ট্রেলিয়া বিরোধিতার নেতৃত্ব দিয়েছিল। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড তাদের অনুসরণ করে। যুক্তিটা ছিল সহজ: “তারা প্রস্তুত নয়, বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়।”
তবে একজন মানুষ এর সাথে একমত ছিলেন না। অবশ্যই তিনি একজন ভারতীয় । আর তিনি হলেন তৎকালীন আইসিসি সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া (Jagmohan Dalmiya) । তিনি তাঁর অবস্থানে অটল ছিলেন। ভারতও অটল ছিল। শ্রীলঙ্কা সমর্থন করেছিল। পাকিস্তানও তখন সমর্থন করেছিল। জিম্বাবুয়ে বিরোধিতা করেনি।ডালমিয়ার বিশ্বাস ছিল স্পষ্ট: “যদি বাংলাদেশকে সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে তাদের অগ্রগতি কখনোই আসবে না।”
জগমোহন ডালমিয়া তার প্রভাব এবং নিরলস তদ্বিরের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। ফলস্বরূপ বাংলাদেশের জন্য আইসিসির আরও বেশি তহবিল,আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন৷ এছাড়া, পরিচিতি-অভিজ্ঞতা ও বৈধতা সেই ভারতের জন্যই পেয়েছে বাংলাদেশ । আজ বাংলাদেশের ক্রিকেট এই পর্যায়ে টিকে আছে কারণ অন্যরা যখন দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন কেউ তাদের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল । আর সেটা একমাত্র ভারত । কিন্তু আজ ?
সেই একই বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রশাসনকে দেখা যাচ্ছে ভারতের বিরোধিতা করতে, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে, ভুল ধারণা ছড়াতে এবং এমন শক্তির সাথে হাত মেলাতে যারা ঐতিহাসিকভাবে কখনোই সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করেনি।
এটা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটা হলো সেই ব্যক্তি বা দেশকে ভুলে যাওয়া,যারা সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল । তবে ইতিহাস বদলায় না। আর যখন আপনি এটি উপেক্ষা করেন, তখন আপনাকে সাহসী দেখায় না,বরঞ্চ আপনাকে অকৃতজ্ঞ দেখায়, এবং বাংলাদেশিরা প্রকৃত অর্থেই অকৃতজ্ঞের মত কাজ করছে আজ । তারা হয়তো এটা বুঝতে পারবে,কিন্তু কয়েক বছর পর।।

