দুর্বা সূক্তম্ হলো কৃষ্ণ যজুর্বেদীয় মহানারায়ণ উপনিষদের (বা তৈত্তিরীয় আরণ্যক) অন্তর্ভুক্ত একটি অত্যন্ত পবিত্র বৈদিক মন্ত্র, যা দূর্বা ঘাস ও গণেশ বা প্রকৃতির কল্যাণময় রূপের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এটি সাধারণত পূজা ও শুভ অনুষ্ঠানে জীবনের বাধা দূর করতে এবং সমৃদ্ধি কামনায় পাঠ করা হয়, যা মূলতঃ প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতীক
দুর্বা সূক্তম্
সহস্রপরমা দেবী শতমূলা শতাঙ্কুরা । সর্বগ্ম্ হরতু মে পাপং দূর্বা দুঃস্বপ্ন নাশনী । কাণ্ডাৎ কাণ্ডাৎ প্ররোহন্তী পুরুষেণ শতেন চ ।
এবা নো দূর্বে প্রতনু সহস্রেণ শতেন চ । যা শতেন প্রতনোষি সহস্রেণ বিরোহসি । তস্যাস্তে দেবীষ্টকে বিধেম হবিষা বয়ম্ । অশ্বক্রান্তে রথক্রান্তে বিষ্ণুক্রান্তে বসুন্ধরা । শিরসা ধারয়িষ্যামি রক্ষস্ব মাং পদে পদে ॥ ১.৩৭ (তৈ. অর. ৬.১.৮)
দুর্বা সূক্তম্ (বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)
কাণ্ডাৎ কাণ্ডাৎ প্ররোহন্তী পুরুষেণ শতেন চ।অর্থ: হে দূর্বা, তুমি প্রতিটি গ্রন্থি (মূল) থেকে শত শাখা ও শত পুরুষ ধরে উৎপন্ন হও (অর্থাৎ, আপনি চিরস্থায়ী ও বংশবিস্তারকারী) ।
এবা নো দূর্বে প্রতনু সহস্রেণ শতেন চ।
অর্থ: হে দূর্বা, আমাদের (সুখ-সমৃদ্ধি) হাজার ও শতগুণ বৃদ্ধি করো ।
যা শতেন প্রত্নাসি সহস্রেণ বিরোহসি।
অর্থ: হে দুর্বা, আপনি শত এবং হাজার আকারে অঙ্কুরিত হন ।
তস্যাস্তে দেবী অষ্টশতেহভিযজ্মহে।
অর্থ: হে দেবী (দুর্বা), আমরা তোমাকে শতশত রূপে (অষ্টশত – পূর্ণতা অর্থে) পূজা করি ।
গুরুত্ব:
দূর্বা ঘাস অদম্য জীবনশক্তি, শুদ্ধতা এবং প্রকৃতির আশীর্বাদের প্রতীক। এটি গনেশ পূজার একটি অপরিহার্য অঙ্গ, কারণ এটি বাধা দূর করে এবং ভক্তের জীবনে কল্যাণ ও স্থায়িত্ব নিয়ে আসে ।

