এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),২৫ জানুয়ারী : রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার ঠিক আগেই রহস্যজনকভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের এক যুবক । মৃতের নাম সুমন দে (২২)। তার বাড়ি কেতুগ্রাম থানার রাজুর গ্রামে । শনিবার রাত প্রায় দুটো নাগাদ ওই যুবককে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন তার মা । প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আজ রবিবার দেহটি কাটোয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো হয়। এদিকে ওই যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার কারন নিয়ে ধন্দ্বে পরিবার । মৃতের কাকা নিমাই দে বলেন,’সুমন রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদের লিখিত ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে ভাইপোটা কেন এমন অঘটন ঘটাল বুঝতে পারছি না ।’
জ্বানা গেছে,কেতুগ্রামের রাজুর গ্রামের বাসিন্দা নিবারণ দে এবং মাধবীদেবীর এক ছেলে ও এক মেয়ে । সুমন ছোট । মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে । গতবছর স্নাতক হওয়ার পর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুমন। অবশেষে তিনি রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদের সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন । সম্প্রতি তার চাকরিতে যোগ দিতে যাওয়ার কথা ছিল ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে,শনিবার রাতে পাড়ার সরস্বতী প্রতিমার বিসর্জন ছিল । রাত পর্যন্ত বিসর্জন সেরে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ক্লাবে খাওয়া দাওয়া করেন সুমন। তারপর রাত সাড়ে এগারোটা টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন এবং নিজের ঘরে ঘুমতে চলে যান ।
জানা গেছে,অনেক রাত পর্যন্ত মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকার অভ্যাস ছিল সুমনের । সেজন্য রাতের দিকে মা মাধবীদেবী ঘুনতে যাওয়ার আগে ছেলের ঘরে একবার দেখে আসতেন। শনিবার রাত দুটো নাগাদ যথারীতি তিনি ছেলের খোঁজ নিতে গিয়ে তাকে ঝুলন্তবস্থায় দেখতে পান ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান,প্রেম ঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারনেই সুমন দে আত্মঘাতী হয়েছেন । আত্মহত্যা করার আগেও গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলে চ্যাটিং করে গিয়েছিলেন সুমন । আর তা থেকেই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি করে সন্দেহ দানা বাঁধছে । পরিবারের পক্ষ থেকে সুমনের মোবাইল ফোনটি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন ফোনটি খতিয়ে দেখে যুবকের আত্মহত্যার কারন অনুসন্ধান করছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ ।।

