এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৫ জানুয়ারী : কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে (Jamaldaha) এক ১১ বছরের নাবালিকার হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় । বৃহস্পতিবার দুপুরে খড়ি আনতে গিয়ে প্রতিবেশী এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের লালসার শিকার হয় ওই কিশোরীকে । অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে ও মুখ চেপে ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এক গৃহবধূর তৎপরতায় নির্যাতিতা উদ্ধার হলেও, অভিযুক্তের হুমকিতে ভয়ে প্রথমে অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি পরিবার ।শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সাহসে মেখলিগঞ্জ থানায় (Mekhliganj Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
আজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ধর্ষক বৃদ্ধের ছবি-পরিচয় ও এফ আই আর-এর কপিটি প্রকাশ্যে এনেছেন । তিনি লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গ এখন ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে এমনিতেই আইন শৃঙ্খলা বলে কিছু আর নেই। তাই এই রাজ্যে মহিলাদের ও কোনোও সুরক্ষা নেই।গত ২২ জানুয়ারী কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার জামালদহ এলাকায় একটি ১১ বছরের কন্যাকে তার বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে জোর করে হাত পা বেঁধে তার সাথে কুকর্ম করে মেয়েটির ই প্রতিবেশী এনামুল মিঞা। বাচ্চা মেয়েটির সাথে কুকর্ম করবার সময় এই এনামুল কে ধরে ফেলেন স্থানীয় আর এক প্রতিবেশী। এই এনামুল মিঞার কুকর্মের কথা মেয়েটির বাড়িতে জানতে যাতে না পারে তার জন্যে বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয় যাতে তারা ভয় পেয়ে মুখ বন্ধ রাখে। কিন্তু সকল ভয় কে উপেক্ষা করে গত ২৪ তারিখ মেয়েটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এনামুল মিঞার নামে। আমি ঐ অভিযোগ পত্র ও এনামুল মিঞার ছবি নিচে সংযুক্ত করেছি। পুলিশ এখনো পর্যন্ত এই এনামুলকে গ্রেফতার করার বা তার বিরুদ্ধে কোনোও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা তার কোনোও খবর নেই।’
শুভেন্দু আরও লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোষণের রাজনীতির ফলে রাজ্যের হিন্দুদের উপরে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের অত্যাচার দিন প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এদের থামাতে গেলে অবিলম্বে এই সরকার টাকে বিসর্জন দিতে হবে। নিজেদের মা বোনদের রক্ষার স্বার্থে হিন্দুদের একত্রিত হতেই হবে, বিকল্প কোনোও পথ নেই।’
শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করে অভিযোগপত্র অনুযায়ী নির্যাতিতা শিশুকন্যার মা লিখেছেন, ‘বিনীত নিবেদন এই যে আমার নাবালিকা কন্যা বয়স আনুমানিক ১১ বছর গত ২২/০১/২০২৬ (ইং) তারিখ সময় আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিট নাগাদ আমার কন্যা বাড়ির পাশে জঙ্গলে খড়ি সংগ্রহের জন্য যায়। সেই সময় আমার প্রতিবেশী নিম্নলিখিত আসামী আমার কন্যাকে জঙ্গলে একলা পেয়ে তাকে মুখ চেপে ধরে মাটিতে ফেলাইয়া তার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে তার স্পর্শকাতর ও আপত্তিকর স্থানে হাত দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে তার পরনের জামা কাপড় খুলে তাকে বলপূর্বকভাবে ধর্ষণ করতে থাকে। সেই সময় সন্তোষী দাস জঙ্গলের ভিতরে গেলে নিম্নলিখিত আসামীকে ধর্ষণ করতে দেখে। সেই সময় সন্তোষী দাস নিম্নলিখিত আসামীর হাত হইতে আমার কন্যাকে নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করে আমার কন্যার সম্মান রক্ষার্থে গামছা পরায় নিম্নলিখিত আসামীকে ঘটনাস্থলে তার এই অপকর্মের জন্য একটি থাপ্পর মারে, নিম্নলিখিত আসামী সন্তোষী দাসকে ঘটনা কাউকে না বলার জন্য প্রভাব খাটাতে থাকে। এরপর সন্তোষী দাস আমার কন্যাকে বাড়িতে নিয়ে এসে সমস্ত ঘটনার কথা জানায়। আমি আমার কন্যার মুখে জানতে চাইলে সে সমস্ত ঘটনা জানায়। এরপরে নিম্নলিখিত আসামী আমাকে ও আমার পরিবারকে নানারকম হুমকি দেয়। আমি ও আমার পরিবার নিম্নলিখিত আসামীর ভয়ে আত্মন্বিত এবং মান সম্মানের কথা চিন্তা করে উক্ত দিন এজাহার করতে পারিনি। বর্তমানে আমার কন্যা মানষিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও আত্মঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
বিধায় প্রার্থনা উপরোক্ত বিষয়টি সরোজমিনে খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহাশয়ের আজ্ঞা হয়।আসামীর নাম ও ঠিকানা : এনামুল মিঞা পিতা আব্দুল খালেক । সাকিন- ২০০ জামালদহ, থানা মেখলিগঞ্জ, জেলা কোচবিহার।’
সংবাদমাধ্যমের খবর,এই খবর জানাজানি হতেই উত্তেজিত জনতা জামালদহ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। শনিবার অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। গতকাল রাতেই টায়ার জ্বালিয়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার পাথরের ঘায়ে আহত হন মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজ । পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়।’।

