এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ দিনাজপুর,২৫ জানুয়ারী : দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) শুনানি চলাকালীন মাইক্রো অবজারভারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে । আক্রান্ত হয়েছেন আরও এক কর্মী । এমনকি মাইক্রো অবজারভারকে হাত জোড় করে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার চাঞ্চল্যকর ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে পুলিশের সামনেই ওই মাইক্রো অবজার্ভারকে মারধর করতে দেখা গেছে৷ রাজ্য বিজেপির সভাপতি বললেন, ‘এটি মাইক্রো অবজারভার নয়, এটি গণতন্ত্রের মুখে প্রকাশ্য চড় ।’
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয় । আক্রান্ত মাইক্রো অবজারভার হলেন দিব্যেন্দু গড়াই । আক্রান্ত হয়েছেন কৃষি দপ্তরের কর্মী দিলীপ লাকড়াও ৷ বিজেপির অভিযোগ,হামলার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন । যদিও মাইক্রো অবজারভারকে চড় মারার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেলে বিপাকে পড়ে যায় প্রশাসন ।
জানা গেছে, শনিবার কুমারগঞ্জ বিডিও অফিস সংলগ্ন আইসিডিএস অফিসে জাখিরপুর পঞ্চায়েতের ১২২, ১২৩ ও ১২৫ নম্বর বুথের ভোটারদের এস আই আর শুনানি চলছিল। শুনানির সময় প্রায় দুই শতাধিক ভোটারের নথিতে ‘নো ম্যাচিং’ লিখে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ । শুনানিতে আসা লোকজনদের দাবি যে সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ‘নো ম্যাচিং’ লিখে দেওয়া হয়েছে । এরপরই নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীর উপর হামলা চালানো হয় । নিজের প্রাণ বাঁচাতে মাইক্রো অবজারভার হলেন দিব্যেন্দু গড়াই হাত জোড় করেন । খবর পেয়ে বিডিও নিজে গিয়ে আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিজের চেম্বারে নিয়ে আসেন।
সমীক ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘কুমারগঞ্জে আজ যা ঘটেছে, তা শুধুমাত্র একজন মাইক্রো অবজারভারের উপর শারীরিক আক্রমণ নয়-এটি গণতন্ত্রের মুখে প্রকাশ্য চড়।বিডিও অফিসের ভেতরে, প্রশাসনিক পরিসরের মধ্যেই একজন মাইক্রো অবজারভারকে চড় মারা হয়েছে।’ তিনি লিখেছেন,’কিছুদিন আগে একই ভাবে SIR এর বিরোধিতা করে ফারাক্কায় বিধায়ক মণিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিডিও অফিসে ভাঙচুর করা হয়, এইসব ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়—তৃণমূল শাসনে প্রশাসন আজ ভীত, অসহায় এবং শাসকদলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। যিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার দায়িত্বে আছেন,তাঁকেই যদি সরকারি অফিসের ভেতরে অপমান ও হেনস্থার শিকার হতে হয়,তবে সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা কোথায়?এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটাই তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি।ভয় দেখানো, আক্রমণ,হুমকি—আর প্রশাসনের নীরব আত্মসমর্পণ । আজ আক্রান্ত মাইক্রো অবজারভার,কাল আক্রান্ত হবে ভোটার, পরশু আক্রান্ত হবে গণতন্ত্র নিজেই।আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।তা না হলে স্পষ্ট হয়ে যাবে—এই রাজ্যে আইন নয়, শাসন করছে শাসকদলের গুন্ডারা।গণতন্ত্র অপমানিত হলে আমরা চুপ থাকব না।’।
