এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাঁকুড়া,২৪ জানুয়ারী : বুধবার গভীর রাতে বাঁকুড়া জেলাত ওন্দার নাকাজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি নেতা তাপস বারিকের বাড়ি ও দোকানে পেট্রোল ঢেলে গোটা পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছিল । যদিও প্রতিবেশীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান ওই বিজেপি নেতা । এই ঘটনার পেছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা ৷ আজ শনিবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আক্রান্ত দলীয় নেতার পোড়া বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে পাশে থাকার আশ্বাস দেন । পরে তিনি বলেন,”যে যুবকরা নিঃস্বার্থভবে দেশ বাঁচাতে চায়, সেই সমস্ত ভারত মাতার প্রকৃত সন্তানরাই তৃণমূলের টার্গেট”।
জানা গেছে,আক্রান্ত তাপস বারিক নাকাজুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন । বুধবার রাতে দলীয় সম্মেলন সেরে বাড়ি ফেরেন তিনি। গভীর রাতের দিকে একদল দুষ্কৃতী প্রথমে তাপস বারিকের বাড়ির পাশেই তার ওষুধের দোকানে চড়াও হয়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি লুটপাট চালানো হয় ।এরপর দুষ্কৃতীরা তাপস বাবুর বাড়িতে হামলা চালায়। সদর দরজার তালা ভেঙে বাড়ির বাইরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্কিত পরিবার গ্রামবাসীদের সহায়তায় কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া হয়ে যান তাপস বারিক । আজ দুপুরে তাকে সাথে নিয়ে নাকাজুরি গ্রামে যান শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, স্থানীয় বিধায়ক অমরনাথ শাখা,জেলা সভাপতিসহ দলীয় নেতারা । সেই সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের যুবকরা তৃণমূলের টার্গেট । এটা আজকের নয়, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা এদেরকেই টার্গেট করেছিল বাংলার সমস্ত বুথে বুথে।
লক্ষাধিক যুবককে ঘর ছাড়তে হয়েছিল। আসামে, ঝাড়খণ্ড, বিহারে গিয়ে তাদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল । এখনো ১০-১২ হাজার যুবক অন্য রাজ্য থেকে ফেরেনি । এই সমস্ত, যুবক যারা নিঃস্বার্থভাবে ভারত মাতার সন্তান, মোদিজীর আদর্শে বাংলা গড়তে চায় এবং দেশ বাঁচাতে চায়, তারাই আজকে ওদের টার্গেট।’
এর আগে তাপস বারিক অভিযোগ তোলেন যে তার অনুপস্থিতিতে পুলিশ তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বয়ান বদলের জন্য চাপ দিয়েছিল । এই ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীও প্রশ্ন তুলেছেন । তিনি বলেন,’আজ ৪৮ ঘন্টা পরে,আমি সাংসদ, বিধায়করা আসবে বলেই ফরেন্সিক দল এসে পরিদর্শন করে গেছে । গত ২২ তারিখে রাত্রি দুটোর সময় ঘরে আগুন লেগেছে৷ কিন্তু ওই দিন পুলিশের যে প্রাথমিক তদন্ত করা কথা, সেটা করেনি । আর তাপস অত্যন্ত ভদ্র ছেলে,বিজেপি কখনো মিথ্যা মামলায় বিশ্বাস করে না৷ তাপসের এফ আই আর-টা দেখবেন, অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতী লিখেছে কারোর নাম দিয়ে লেখেনি । পুলিশের তো দায়িত্ব ছিল আসল দোষীদের চিহ্নিত করা । তাপস চাইলে তৃণমূলের যে ৫-৭ চোর তাকে ধমকাত তাদের নাম দিতে পারত । কিন্তু ও সততা দেখিয়েছে ।’
পাশাপাশি তিনি বিডিও-এর সমালোচনা করে বলেন, ‘একটা সাধারণ লোকের বাড়িতে আগুন লাগলে বিডিওর আসা উচিত । ত্রিপল, কম্বল প্রভৃতি সাহায্য সরকারি ভাবে দেওয়া উচিত ছিল । কিন্তু আমার বাড়িটা দেখে অবাক লাগছে যে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি জি আবাস যোজনায় ৩০০০০ কোটি টাকা দিয়েছেন , কিন্তু তারপরও দেখুন বাড়িটা কাঁচা ।’।

