এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৩ জানুয়ারী : “স্কুলে ৫০% শতাংশের উপর মুসলিম বাচ্চা থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ আর মমতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পুজো বন্ধ করে দিল” বলে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন যে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত ময়নাগদি স্কুলে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,’পশ্চিমবঙ্গ এখন কি বাংলাদেশে পরিণত হয়ে গেছে ?’
বিরোধী দলনেতার শেয়ার করা ভিডিওতে একজন যুবককে হাতে ছোট সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে বলতে শোনা যাচ্ছে,’আমরা মাইনোরিটি বলে স্কুলে সরস্বতী পূজা হল না । করতে দেওয়া হল না ৷ এই প্রতিমা আমরা বের করে নিয়ে যাচ্ছি রাস্তায় পূজো করব বলে ।’ এরপর কয়েকজন পুলিশকর্মী এসে ওই যুবককে রীতিমতো হুমকির সুরে বলেন, ‘এই,তোমাকে বলা হল তো । ওখানে বলা হল ।’ যুবক বলেন,’তাহলে স্কুলে করা যাবে না ?’ অন্য এক পুলিশ কর্মী বলেন,’না এখানে করা যাবে না৷’
জানা গেছে,উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দত্তপুকুর থানার ময়নাগডি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিগত দু’বছর ধরে সরস্বতী পুজো বন্ধ । যেকারণে স্থানীয় হিন্দুরা বিদ্যালয়ের বাইরে সরস্বতী পুজো করছিলেন । এবারে তারা বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে সরস্বতী পূজা করবেন বলে ঠিক করেন । কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মৌ দাস সাফ জানিয়ে দেন যে স্কুলে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা যাবে না । কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু যুবক ছোটো প্রতিমা নিয়ে এসে স্কুলে পূজোর তোড়জোড় শুরু করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দেয় এবং পুলিশ এসে তাদের স্কুল থেকে সরিয়ে দেয় । এরপর রাস্তার পাশে ইঁটের স্তুপের নিচে প্রতিমা রেখে পূজোর আয়োজন করা হয় “সরস্বতী পূজো বাঁচাও কমিটি” র ব্যানারে ।
শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গ এখন কি বাংলাদেশে পরিণত হয়ে গেছে? প্রশ্ন টা উঠেই যায় যখন স্কুলের বাচ্চা বাচ্চা ছাত্রছাত্রীরা সরস্বতী পুজো করতে চাইলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আর মমতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সেই পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ দেখানো হয় স্কুলে হিন্দু বাচ্চারা সংখ্যালঘু, ৫০% শতাংশের উপর মুসলিম বাচ্চা রয়েছে তাই সরস্বতী পুজো করতে দেওয়া হবে না। অবশেষে সেই পুজো করতে হল রাস্তার ধারে ফুটপাথে। ছোটো ছোটো বাচ্চাগুলো বাগদেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিল ফুটপাথেই। এই ঘটনাটি ঘটেছে বারাসাত ময়নাগদি স্কুলে। আমরা কোন পশ্চিমবঙ্গে বাস করছি?’
তিনি লিখেছেন,’ঘটনাটি কিন্তু একটা বিষয়ে শিক্ষা দেয়, হিন্দুরা সংখ্যালঘু হলে তাদের সাথে কি আচরণ ঘটতে পারে? সামান্য স্কুলে, বা যে কোনোও শিক্ষাকেন্দ্রে যেখানে শিক্ষাদান করা হয় আমরা বরাবর সেখানে দেখে এসেছি বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর সেখানে পুজো হতে, সব শিক্ষার্থীদের সেখানে পুজোয় মা সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে। অথচ আজ কি দেখতে হচ্ছে এই বাংলায়? না যেহেতু স্কুলে ৫০% এর বেশী মুসলিম বাচ্চা সেখানে পড়াশোনা করে তাই পুজো বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’
সবশেষে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’এটা তো সামান্য একটা স্কুলের উদাহরণ, সকল হিন্দুদের বলব ভেবে দেখুন এটা রাজ্যে বা দেশে হলে কি পরিস্থিতি হতে পারে? তাই সময় থাকতে সব হিন্দুরা একত্রিত হন। এই তোষণকারী সরকার কে অবিলম্বে বিদায় দিন, না হলে, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের জন্য তৈরী তাদের এই একমাত্র হোমল্যাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে আপনাদের পূর্বপুরুষরা বা আপনারা পালিয়ে এসেছেন, এর পর কোথায় যাবেন তা এখন থেকেই ভাবা অভ্যাস করতে হবে।’।
