পারমিতা দত্ত,পূর্বস্থলী,২৩ জানুয়ারী : আজ শুক্রবার গোটা রাজ্য জুড়ে স্কুলগুলির পড়ুয়ারা যখন বাগদেবীর আরাধনায় মগ্ন, তখন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানার অন্তর্গত নিমদহ শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের স্কুলে বসে দেবীর পুষ্পাঞ্জলি নেওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হল । আর এর জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জনা চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পড়ুয়াদের অবিভাবকরা । ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা বিধায়ক প্রতিনিধি আলাউদ্দিন শেখও । যদিও প্রধান শিক্ষিকা প্রথমে নিজ্রর শারীরিক অসুস্থতার কথা বললেও, পরে ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করে নেন ।
জানা গেছে,আজ সকালে নিমদহ শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়ারা স্নান সেরে স্কুলে পুষ্পাঞ্জলি নিতে এসে দেখে যে স্কুলের গেটে তালা ঝোলানো । তারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জনা চ্যাটার্জীকে আসতে না দেখে বাড়ি ফিরে যায় । পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরে অবভাবকদের কাছে স্কুলে সরস্বতী পূজা না হওয়ার কথা জানালে তারা চরম ক্ষুব্ধ হন। এরপর পড়ুয়াদের বাবা-মা জোট বেঁধে স্কুলে আসেন । এদিকে খবর পেয়ে দুপুর প্রায় একটা নাগাদ পূর্বস্থলী থানার পুলিশ নিয়ে স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষিকা অঞ্জনা চ্যাটার্জী । তাঁকে দেখেই অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন । পূজো না করার জন্য প্রশ্নবানে বিদ্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করেন ।
দিলেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি বলেন, ‘পূজা না করানোর জন্য ওই দিদিমণি-ই দায়ী। উনি মিথ্যা নানা অজুহাত দেন। আমাদের কথা শোনেন না ।’ যদিও শেষ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষিকা নিজের ভুল স্বীকার করলে পরস্থিতি স্বাভাবিক হয় । এদিকে এই পরিস্থিতির মধ্যে পূর্বস্থলী-২ পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের উদ্যোগে গ্রামবাসীরাই উদ্যোগী হয়ে সরস্বতী প্রতিমা কিনে স্কুলের দরজার সামনে পূজার আয়োজন করেন । সরস্বতী পূজোর দিনেই এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।।

