পারমিতা দত্ত,কালনা(পূর্ব বর্ধমান),২২ জানুয়ারী : বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে “চটিচাটা পুলিশ” বা “মমতা পুলিশ” প্রভৃতি বিশেষণে ভূষিত করে থাকেন । মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে কোচবিহার, কলকাতা থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি, রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষতাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে । রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বারবার বিতর্ক দানা বেধেছে । বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি,বিশেষ করে বিজেপির অভিযোগ যে কার্যত তৃণমূলের ক্যাডারের ভূমিকা পালন করছে রাজ্য পুলিশের একাংশ । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের কালনা-২ শাখার নেত্রী টুম্পা গড়াই যেটা দাবি করেছেন তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত । তাঁর দাবি, গভীর রাতে খোদ স্থানীয় থানার বড়বাবু বিশাল বাহিনী সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে “স্বাস্থ্য ভবন অভিযান” নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “প্লিজ আন্দোলন তুলে নিন, সিএম ম্যাডাম এসআইআর নিয়ে চাপে আছেন”।
আসলে, চাকরির সরকারি স্বীকৃতি,বেতনবৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবিতে বুধবার কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবনে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের । কিন্তু রাজ্যের প্রতিটি জেলার সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে নবান্ন থেকে ফোন করে আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ । যেকারণে গতকাল পূর্ব বর্ধমান জেলাসহ বহু জেলার হাজার হাজার আশাকর্মীদের আটকে দেওয়া হয় । ফলে জেলায় জেলায় চুড়ান্ত হেনস্থার শিকার হতে হয় আশাকর্মীদের ।
পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরায় বাস ভাড়া করে কলকাতা যাওয়া আশাকর্মীদের মাঝ রাস্তায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে । এমনকি অম্বিকা কালনা রেল স্টেশনে টিকিট কেটে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা আশাকর্মীদের টিকিট কেড়ে পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । কালনার এই ঘটনায় কালনা পুলিশ ছাড়াও রেলপুলিশের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন আশাকর্মীরা । এই প্রকার দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার কালনায় প্রতিবাদ মিছিল করে আশাকর্মী সংগঠন ।
সেই মিছিলে যোগ দিতে এসে আশাকর্মী ইউনিয়নের কালনা-২ শাখার নেত্রী টুম্পা গড়াই বলেন,’গতকাল কলকাতার স্বাস্থ্যভবনে পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন স্বাস্থ্য সচিব । তার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আমাদের একটা ডেপুটেশন পর্ব ছিল। কিন্তু আমরা অংশগ্রহণ করতে পারিনি । রাজ্য পুলিশ, রেল পুলিশ আমাদের এই কর্মসূচিকে বানচাল করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছে,আমাদের হয়রানি করেছে । সিভিক পুলিশ, রাজ্য পুলিশ, এমনকি জি আর পি পর্যন্ত আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছিল । কাউকে বলা হয়েছে যে আপনাকে বাড়ি থেকে বের হতে হবে না৷ আমাকেও হুমকি দেখানো হয়েছে । পুলিশ ফোর্স গিয়ে আমাকে বলেছিল,রাজ্য নেতৃত্বকে বলুন যে এই কর্মসূচি বাতিল করতে হবে । কেন না আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এস আই আর নিয়ে সমস্যায় আছেন । আমাদের উপর অর্ডার আছে ।’
তিনি বলেন,’আমাদের থানার বড়বাবু একথা প্রথমে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন। পরে মঙ্গলবার থানার বড়বাবু ১০-১২ জন ফোর্স নিয়ে রাত সাড়ে ১১ টার সময় আমার বাড়ি গিয়েছিলেন । বড়বাবু আমাকে পরিষ্কার বলেন, দেখুন আমাদের উপর নির্দেশ আছে । কালকে কর্মসূচিতে আপনি অংশগ্রহণ করবেন না । আর আপনার নেতৃত্বে ব্লকের যারা আছেন তারা যেন কাল না যায় সেই দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে । তখন আমি ওনাকে পরিষ্কার বলে দিই যে দেখুন আপনি আমাকে হয়ত আটকাতে পারেন, কিন্তু রাজ্যের ৬০ হাজার কর্মীকে আটকানোর ক্ষমতা আমার নেই ।’
এদিকে গতকাল পুলিশের দ্বারা বিভিন্ন হেনস্থার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার অম্বিকা কালনা রেল স্টেশনে মিছিল করে এসে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন আশাকর্মী ইউনিয়নের সদস্যারা । পরে তারা কালনা সুপার স্পেশালিস্ট হাসপাতাল পর্যন্ত মিছিল করে যান । যদিও কালনা রেল পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা কাউকে ট্রেনে উঠতে বাধা দেননি। তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।।

