এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ জানুয়ারী : বহু চর্চিত পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (West Bengal DGP) বা ডিজিপি, রাজীব কুমারকে অবশেষে ছেড়ে দিতে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে । ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (ক্যাট)। প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের অবসানে এটি একট নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে৷ রাজ্য সরকার এবং ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), উভয় পক্ষকেই ৪৮ ঘণ্টার এক চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ক্যাট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা বা রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির জন্য যে কোনও যোগ্য অফিসারের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হরণ করা বরদাস্ত করা হবে না ।
রাজ্যের ডিজিপি পদটি ২০২৩ সালের শেষের দিকে শূন্য হওয়ার পর থেকেই জটিলতার সৃষ্টি হয় । সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত প্রকাশ সিংহ বনাম কেন্দ্র মামলার নির্দেশিকা অনুসারে,এই ধরণের শীর্ষপদে শূন্যতা তৈরির অন্তত তিন মাস আগেই রাজ্য সরকারকে যোগ্য অফিসারদের নামের তালিকা ও প্রস্তাব ইউপিএসসি-র কাছে পাঠাতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নির্দেশিকা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় বছর কালক্ষেপ করে। অবশেষে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজ্য সেই প্রস্তাব পাঠায়। এই বিপুল বিলম্বের কারণ দর্শিয়ে এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন লঙ্ঘনের যুক্তি দেখিয়ে ইউপিএসসি রাজ্যের সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়, যার ফলে রাজ্যে এক গভীর প্রশাসনিক সঙ্কট তৈরি হয় ।
এই পরিস্থিতিতে, নিজের চাকরির সিনিয়রিটি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিজিপি পদের জন্য ‘বিবেচিত হওয়ার অধিকার’ রক্ষার্থে ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন ১৯৯০ ব্যাচের সিনিয়র আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার ।তাঁর আবেদনের শুনানিতে ক্যাট স্পষ্ট করেছে যে, প্রশাসনিক স্তরের গাফিলতি বা দুই সংস্থার মধ্যে দড়ি টানাটানির মাশুল কোনওভাবেই কোনও যোগ্য অফিসার গুনবেন না। কোনও উচ্চ পদের জন্য বিবেচিত হওয়া একজন অফিসারের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। প্রক্রিয়া চলাকালীন মাঝপথে নতুন করে নিয়ম বা ব্যাখ্যা বদলানো আইনত সিদ্ধ নয়। যদিও রাজ্যের দেরির দায় সরাসরি ইউপিএসসির ওপর বর্তায় না, কিন্তু এই বিলম্বের জেরে কোনও অফিসারের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা মেনে নেওয়া যায় না।
ট্রাইবুনালের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারির মধ্যেই রাজ্য সরকারকে ডিজিপি এমপ্যানেলমেন্ট সংক্রান্ত প্রস্তাব ফের ইউপিএসসিতে পাঠাতে হবে। এর ঠিক পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ইউপিএসসি-কে এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির বৈঠক ডেকে তিনজন সিনিয়র অফিসারের প্যানেল চূড়ান্ত করতে হবে এবং ২৯ জানুয়ারির মধ্যে সেই তালিকা রাজ্যের হাতে তুলে দিতে হবে।
এই পরস্থিতিতে তিন রকম বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হাতে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে । এক, ক্যাটের নির্দেশ মেনে নতুন ইউপিএসসি-র (UPSC) কাছে প্যানেল পাঠানো। অর্থাৎ,ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মাথানত করে মেনে নেওয়া । দুই, ক্যাটের নির্দেশ না মেনে বরং তাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া । এবং তিন,৩১ জানুয়ারির পর ‘অ্যাক্টিং ডিজিপি’ নিয়োগ করা । রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ শে জানুয়ারী । তাঁর অবসরের পর কোনও সিনিয়র আইপিএস অফিসারকে ‘অ্যাক্টিং ডিজিপি’ হিসেবে দায়িত্ব দিতে পারেন মমতা । কিন্তু ভোটের ঠিক মুখেই একজন অনুগত আইপিএস হাতছাড়া হওয়ায় মমতার জন্য একটা চরম ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে ।।

