প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২১ জানুয়ারী : এসআইআর হয়রানি ও তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে পথসভা করাকলীন রাজ্যের মন্ত্রীর রোষে পড়লেন সিপিএমের নেতা কর্মীরা।পথসভায় এসএফআই (SFI)নেতা ঝাঁজালো বক্তব্য রাখার সমর তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো খোদ রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের বিরুদ্ধে । এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে। তবে অবশ্য এ নিয়ে বড়সড় কোন অশান্তি বা গোলযোগের ঘটনা ঘটেনি।
এসআইআরের শুনানি নিয়ে অশান্তির আঁচ ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমন আবহে এসআইআর হয়রানি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবাদে নামে সিপিএমের পূর্বস্থলী-১ এরিয়া কমিটি। ব্লকের বিডিও অফিসের বাইরে টোটোয় লাল পতাকা ও মাইক বেঁধে চলে বক্তব্য রাখা। এসএফআইয়ের জেলা সহ -সভাপতি কৌশিক সরকার বক্তব্য রাখার শুরু থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে ছেড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো ও তৃণমূলের নেতাদের নিশানা করেন।নাদনঘাট থানার বাঁকী এলাকার বাসিন্দা কৌশিক সরকার পথ সভায় তাঁর বক্তব্যে বলেন,’রাজ্যের সবথেকে বড় গরু চোর অনুব্রত মন্ডল।যাঁর মেয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পায়নি ।’ আরো নানা তৃণমূল বিরোধী বক্তব্য তিনি রেখে চলেন।
বিডিও অফিসের কাছে দাঁড়িয়ে এসএফআই নেতা একনাগাড়ে এইভাবে তৃণমূল বিরোধী বক্তব্য রেখে চলায় মেজাজ হারান পূর্বস্থলী দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ।তিন ক্ষুব্ধ হয়ে এসএফআই নেতা কৌশিক সরকারের দিকে এগিয়ে যান। মন্ত্রী মশাইয়ের পিছু পিছু আরো কয়েক জন তৃণমূলের ক্যাডার এগিয়ে যান। এসএফআই নেতার হাত থেক মাইক কেড়ে নিতে উদ্যত হন মন্ত্রী মশাই। তিনি ক্ষোভের সুরে আঙুল উঁচিয়ে এসএফআই নেতাকে বলতে থাকেন,’এই, তুমি এসআইআর-এর শুনানিতে আসা ভোটারদের হয়রানি করছো। তুমি রাজনীতি করার রাজনীতি করো। অন্য জায়গায় গিয়ে করো।’ এইসব কিছু ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে কেউ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহুর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এনিয়ে এসএফআই নেতা কৌশিক সরকার বলেন, ‘এসআইআর হয়রানি নিয়ে এদিন পূর্বস্থলী-১ বিডিও অফিসে আমদের ডেপুটেশন কর্মসূচি ছিল। সিপিএমের পূর্ব নির্ধারিত এই কর্মসূচি শুরুতেই বাধাপ্রাপ্ত হয়। পুলিশ টোটো ও মাইক নিয়ে ভিতরে ঢুকতে দেয়নি আমাদের। তাই আমরা বিডিও অফিসের গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখা শুরু করি। হঠাৎ করে তৃণমূলের দুই যুব নেতা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।এরপর মন্ত্রী মশাই এসে আমার হাত থেকে মাইক কেড়ে নেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আরও নেতারা ছুটে এসে হুমকি দেয়। যদিও আমরা সভা শেষ পর্যন্ত করি।’
সিপিএমের আনা এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন,’শুনানির জন্য মঙ্গলবার হাজার-হাজার মানুষ বিডিও অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় বিডিও অফিসের সামনের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ওরা একনাগাড়ে মাইকে বকে চলায় মানুষজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছিলেন । তখন আমি ওদের সভা বন্ধ করার কথা বলে বলি লোককে উত্তেজিত কোরো না। কারুর হাত থেকে মাইক কাড়তে যাইনি ।যদিও ওরা সাধারণ মানুষের অসুবিধা করেই তারপরেও সভা করে গিয়েছে ।’।
