এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২১ জানুয়ারী : ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা । তার আগে জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশে নিযুক্ত সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবার এবং নির্ভরশীল সদস্যদের দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার । যেকারণে প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেদেশে কোনো বড়সড় দাঙ্গা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে? যদিও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে চান তারা।
বাংলাদেশে ভারতের প্রধান দূতাবাস বা হাইকমিশন রাজধানী ঢাকায়। এছাড়া খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে সহকারী হাইকমিশন রয়েছে। সব জায়গা থেকেই পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে ।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। আজ বুধবার বাংলাদেশে ভোটের চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা ও প্রতীক নির্ধারণ হতে চলেছে । আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারী থেকে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট এবং সাধারণ নির্বাচন—এই জোড়া কর্মসূচির আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ও সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আবহে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দাঙ্গা হচ্ছে ।গত মাসে যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে । একাধিক জায়গায় ভারতীয় উপ-দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়েছিল এবং চট্টগ্রামে ইটবৃষ্টির মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হচ্ছে সেদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা । রিপোর্ট অনুযায়ী,২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অপহরণের ঘটনা ৭১ শতাংশ এবং ডাকাতি ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে । ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু জায়গায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলির কাজ সীমিত করা হয়েছে ।বাংলাদেশের ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে সেদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের পরিবারের জরুরি ভিত্তিতে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়ায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন ।।

