এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২০ জানুয়ারী : রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন বলিউড সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী । আজ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে দলের “পরিবর্তন সংকল্প সভা”য় নিজের ভাষণে তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল আসার পর এরাজ্যে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে এত বিচ্ছেদ ছিল না । এরা আসার পরেই বিভেদ বেড়েছে । উদাহরণ স্বরূপ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে “সেকুলার গান” বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন ।
আসলে,গত ডিসেম্বর মাসে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন শিল্পি লগ্নজিতা লগ্নজিতা চক্রবর্তী । পরপর ৭ টি গান গাওয়ার পর দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাওয়া ‘দেবী চৌধুরাণী’ ছবির ‘জাগো মা’ গানটি গাইছিলেন তিনি ।সেই সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ মেহেবুব মল্লিক মঞ্চে উঠে কার্যত মারমুখী হয়ে লগ্নজিতাকে ‘জাগো মা’ ছেড়ে ‘সেকুলার গান’ গাওয়ার নির্দেশ দেয় । একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় শিল্পী মধুবন্তী মুখার্জিকে নদীয়ায় লালন ফকিরের গানের অনুষ্ঠানে গিয়ে ।
মিঠুন চক্রবর্তী এই দুই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন,’আমরা ভারতীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয় । কিন্তু যারা এই দেশে থেকে দেশের ক্ষতি করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে । আমরা তাদের বিরুদ্ধে ছিলাম আছি এবং কালকেও থাকবো । তা নাহলে এটা কেমন করে হচ্ছে ? একটা ছোট মেয়ে গান গাইছে মায়ের গান, তাকে বলছে এখানে মায়ের গান চলবে না । ভাবতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে আমি দূর্গামায়ের নাম নিতে পারব না? এটা কোনদিন ভেবেছেন ? কিন্তু এগুলো হচ্ছে । ধমকি দেওয়া হচ্ছে । আরে, মা…যেকোনো ধর্মীয় বইতে দেখুন তাতে লেখা আছে মায়ের পায়ের নিচে স্বর্গ । মা কি প্যারে তলে সর্গ হ্যায় । আগর মা কি প্যারে তলে সর্গ হ্যায়, তাহলে মা সাম্প্রদায়িক হলো কি করে ? একবারও ভেবেছেন মা সাম্প্রদায়িক হলো কি করে ? কিন্তু না,গায়ের জোর । গাইবেন না তো গাইবেন না ।’
তিনি বলেন,’চলুন, এটা ছেড়ে দিন । কিছুদিন আগে মধুবন্তী বলে একটা মেয়ে লালন ফকিরের মেলায় গান গাইতে গিয়েছিল । তাকেও ধমকি দেওয়া হয়েছে এখানে মায়ের গান গাইবে না । এটা কি হচ্ছে ? এটা আমাদের পশ্চিমবাংলা ? তাই বলছি সময় এসে গেছে আর দেরি করবেন না । আত্মীয়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলুন, এবারে আমাদের একসাথে হয়ে ভোট দিতে হবে। তবেই আমরা জিতব ।’ মিঠুনের দাবি,
‘এই বাংলায় এতদিন অব্দি আমরা খুব ভালোভাবে সুখে শান্তিতে ছিলাম । হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে কোন ঝগড়া ছিল না । যবে থেকে এই প্রশাসন এসেছে তবে থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু মুসলমানের বিচ্ছেদ । তার আগে ছিল না । আগেও তো ভালোভাবে ভোট করেছি । এখন কেন হচ্ছে ? কারন সেই ভোট । নিয়ে যান আপনি আপনার ভোট । কিন্তু আপনিও আমাদের ভোটে বাধা দেবেন না । তাহলে কিন্তু খেলা হবে । দুজনে মিলে মাঠে খেলব । আর পেনাল্টিতে গোল দেব ।’।
