এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ জানুয়ারী : এক মেয়েকে দেখিয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় । ইসলামি রীতিনীতি মেনে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর সদ্য বিবাহিত যুবক রায়হান কবির বাসর ঘরে ঢুকে স্ত্রীর ঘোমটা তুলতেই তিনি কার্যত আর্তনাদ করে ওঠেন ৷ কারন রায়হান যাকে পছন্দ করে বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিল,সেই মেয়েই নয় তার স্ত্রী । এরপর বিয়ে বাড়ি শুধু নয়,গোটা গ্রামজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায় । পাত্রী বদলের এমন আজব অভিযোগ তুলে পরদিনই কনেকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন রায়হান। তবে শেষ রক্ষা হলো না, প্রতারণার অভিযোগ তুলতে গিয়ে উল্টো শ্রীঘরে যেতে হলো খোদ বরকে।
যেটা জানা যাচ্ছে যে গত জুলাই মাসে ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রাণীশংকৈল এলাকার মেয়ে জেমিন আক্তারের সাথে বিয়ের কথা চলে রায়হানের। বরের পরিবারের দাবি, শিবদিঘী এলাকার এক চায়ের দোকানে প্রথমবার জেমিনকে দেখানো হয়েছিল। তখন মেয়েটিকে পছন্দ হওয়ায় গত ১ আগস্ট ধুমধাম করে বিয়ে সম্পন্ন হয়। রাতের বেলা কনে মেকআপ ধুয়ে সামনে আসতেই আকাশ থেকে পড়েন রায়হান। তার অভিযোগ, “যাকে দেখে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম, বাসর ঘরে গিয়ে দেখি সে নয় । মেকআপের আড়ালে অন্য মেয়েকে আমার ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রতারিত করা হয়েছে।” রায়হানের মামা বাদল মিঞার দাবি, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের সময় তারাও বিষয়টি ধরতে পারেননি।
যৌতুকের পাল্টা অভিযোগ কনে পক্ষের:
তবে পাত্রী বদলের এই দাবিকে স্রেফ ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার পাল্টা অভিযোগ, “৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হলো, তখন কেউ চিনতে পারলো না? আসলে বিয়ের পরেই ওরা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। আমি টাকা দিতে সময় চেয়েছিলাম, কিন্তু ওরা সময় না দিয়ে আমার মেয়ের নামে অপবাদ দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে।”
আইনি লড়াই ও জেলহাজত:
ঘটক মোতালেব অবশ্য এই বিতর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তিনি সঠিক মেয়েই দেখিয়েছিলেন । এই ঘটনায় দু’পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়। আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালতে রায়হান কবিরের জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান,’বিষয়টি এখন বিচারাধীন। প্রতারণা ও যৌতুক সংক্রান্ত এই অমীমাংসিত দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত রায়হানকে কারাগারে যেতে হয়েছে। আদালতই এখন নির্ধারণ করবেন—কে সঠিক আর কে প্রতারক।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—এটি সত্যিই কি পাত্রী বদল, নাকি যৌতুকের কারণে সাজানো কোনো গল্প? উত্তর মিলবে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে। তবে আজ কারাগারে যাওয়ার পথে বর রায়হান বলেন, ‘যাকে প্রথমে দেখানে হয়েছিল সে ফর্সা ও সুন্দরী ছিল । কিন্তু যার সাথে প্রতারণা করে আমার বিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার গায়ের রঙ কালো এবং কদাকার দেখতে । তার মেক আপ করিয়ে এমন সুন্দরী বানিয়ে দিয়েছিল যে মনে হবে আসমানের হুর । ভাগ্যিস আমি বাসর ঘরে যাওয়ার পর সে মেক আপ ধুতে গিয়েছিল । তা না হলে আমার সর্বনাশ হয়ে যেত ।’ পাশাপাশি ওই যুবক এও জানান যে তাকে দেখানো প্রথম মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিলে তিনি বিয়ে করতে রাজি আছেন ।।

