দিব্যেন্দু রায়,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২০ জানুয়ারী : আজ মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারে বিজেপির “পরিবর্তন সংকল্প সভা”য় এসে ২০২৬ -শে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের পতনের “গ্যারান্টি” দিয়ে গেলেন বলিউডের সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী । পাশাপাশি তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি বলেন না যে খেলা হবে । এবারে পেনাল্টিতে কি করে গোল করতে হয় সেটাও দেখিয়ে দেবো ।’
আজ ভাতার-কামারপাড়া সড়কপথের পাশে ভাতার গ্রামের বাউরিপাড়া সংলগ্ন মাঠে দলীয় জনসভায় যোগ দেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী । বিজেপির অভিযোগ যে এই প্রখ্যাত অভিনেতার সভাতেও অনুমতি দেয়নি ভাতার থানার পুলিশ । কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে আজ তাদের সভা করতে হয়েছে । নিজের ভাষণের শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ছিলেন “ডিস্কো ড্যান্সার” খ্যাত এই বলিউড সুপারস্টার । তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে বলেন,’আপনি বলছেন “খেলা হবে” । বড় খেলা হবে । আগের নির্বাচনে বিজেপিদের মেরেছেন, ঘর থেকে বার করে দিয়েছেন,গণহত্যা করেছেন । এবারে কি করবেন ? গলা কেটে দেবেন? ঝুলিয়ে দেবেন ফাঁসিতে ? তবে এবারে মনে রাখবেন, এবারে আপনি আর একা খেলবেন না আমরাও আপনার সাথে খেলব । আমরা দু’জনে মিলেমিশে মাঠে খেলব । আর তারপরে পেনাল্টিতে কি করে গোল করতে হয় সেটাও দেখিয়ে দেবো ।’
মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য শুনুন 👇
এরপর রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সমস্ত হিন্দুদের তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন,’এবারে সবাই এক ছাতার তলায় এসে লড়বেন । তারপরে দেখবেন খেলা কাকে বলে । এমনকি তৃণমূলের বিবেকধারী হিন্দুদের বলছি, যাদের বিবেক নাই তাদের বলছি না, তাদের বলছি আসুন একসাথে জোট মিলে এই সরকারের পতন ঘটাই । এই রাজ্যে বাঙালিত্ব,হিন্দুত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে আমাদের সবাইকে লড়াই একসাথে করতে হবে ।’ তিনি বলেন,’একটা কথা দিয়ে গেলাম, এবারের সরকারের পতন হবেই…হবেই….হবেই । এবারে কিন্তু আর ছাড়াছাড়ি নেই । যেভাবে ব্যবহার করবেন সেভাবে আমরাও ব্যবহার ফেরত দেবো ।’
মমতা ব্যানার্জির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,’রাজ্যটাকে পশ্চিম বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখছেন ? কিন্তু মনে রাখবেন, আমার মত লোক যতদিন বেঁচে থাকবে এবং আমার গায়ে এক ফোঁটা রক্ত থাকবে ততদিন কঈ মাই কি লাল ইসকো পশ্চিমবাংলাদেশ নেহি বানা সকতা ।’ আই প্যাকের হেফাজত থেকে মমতা ব্যানার্জির ফাইল “ছিনতাই”-এর ঘটনায় কটাক্ষ করে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন,’কি আছে ওইসব ফাইলে ? বালি চুরি করেছেন, কয়লা চুরি করেছেন,বিদ্যা চুরি করেছেন,খাদ্য চুরি করেছেন,তার সব হিসাব আছে ওখানে? ৫০ বছর ফিল্ম লাইনে থেকে এত কোটি টাকা আমি নিজের চোখে কোনদিন দেখিনি । চুরি ধরা পড়ে যাবে বলে ফাইলগুলো নিয়ে চলে গেলেন ? তাই ভাবছি কেন ফাইল নিয়ে এত টানাটানি ।’
এদিন মিঠুন চক্রবর্তীর সভাতে মানুষের কার্যত ঢল নামে । বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। উপস্থিত মহিলাদের মিঠুন চক্রবর্তী স্মরণ করিয়ে দেন যে “লক্ষ্মীর ভান্ডার”-এর ১০০০ টাকা করে মমতা ব্যানার্জি যেমন দিচ্ছেন,অপরদিকে কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় (PM-JAY) বিনামূল্যে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা পরিষেবা থেকে তিনি বঞ্চিত করছেন ।।

