এইদিন ওয়েবডেস্ক,আউশগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),১৯ জানুয়ারী : দলের অঞ্চল সভাপতির পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনুগামীদের নিয়ে টায়ার জ্বেলে রীতিমতো পথ অবরোধ করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল নেতা আবুজার শেখ। আজ সোমবার সকালে আবুজার শেখ প্রথমে সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিয়ে আউশগ্রামের আলেফনগর বাসস্ট্যান্ডে জমায়েত করেন । তারপর গুসকরা– মোড়বাঁধ সড়ক পথের টায়ার জ্বেলে রাস্তার উপর বসে অবরোধ শুরু করেন । সকাল নটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরোধের ফলে চুড়ান্ত নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে । আউশগ্রামের এই তৃণমূল নেতার এহেন কীর্তিতে তোলপাড় পড়ে গেছে জেলা জুড়ে । আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার জানান,কাকে কোন পদ দেওয়া হবে তা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় । কিন্তু দলীয় বিষয় নিয়ে একজন নেতার অসন্তোষের কারনে সাধারণ মানুষ কেন নাকাল হবে ? উত্তরে বিধায়ক বলেন,’আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের।’ যদিও অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে খবর ।
জানা গেছে,জেলা তৃণমূলের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তালিকায় আউশগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় আলেফনগর গ্রামের বাসিন্দা আবুজার শেখকে। কিন্তু ফের শনিবার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে জেলা নেতৃত্ব। সেই তালিকায় আবুজারকে সরিয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয় আউশগ্রামের বাসিন্দা মহব্বত শেখকে। আর এতে চরম ক্ষিপ্ত হয় আবুজার। তারই প্রতিবাদে এবং পদ ফেরানোর দাবিতে আজ আবুজার শতাধিক অনুগামীদের নিয়ে পথ অবরোধ শুরু করেন ।
আবুজার শেখের অভিযোগ, সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তাকে ও তার সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে মহব্বত শেখের দলবল । এমনকি হুমকির ভয়ে শনিবার রাত থেকে তিনি ও কয়েকজন কর্মী ঘরছাড়া হয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন । সড়ক অবরোধ করা আবুজার শেখের অনুগামীদের অভিযোগ যে সদ্যনিযুক্ত অঞ্চল সভাপতি মহব্বত শেখ তাঁর স্ত্রী পিয়ারজান বিবির উপর নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে গৃহবন্দি করে রেখেছেন । পিয়ারজান বিবিকে উদ্ধার করে বাসস্ট্যান্ডে আনার দাবিতে পুলিশের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাদের সেই দাবির ভিত্তিতে পিয়ারজান বিবিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আবুজারের কয়েকজন অনুগামী তাঁর সঙ্গে কথা বলে আলেফনগর বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই মহব্বত শেখ তাঁর স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে চলে যান। যদিও মহব্বত শেখ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পারিবারিক বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু দলীয় বিবাদের কারনে সাধারণ মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা নাকাল হতে হওয়ায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় ।।

