এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),১৯ জানুয়ারী : পশ্চিমবঙ্গকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বিজেপি । আর পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে “ভয়” পেয়ে গেছেন বলে জানালেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী । আজ সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের পাঁচুন্দি বাসস্ট্যান্ডে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভায়’ নিজের সেই ভয়ের কথা ব্যক্ত করলেন বলিউডের ডিস্কো ড্যান্সার ।
মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন,’আমি কেন এসেছি জানেন? আমি আপনাদের কাছে হিরোগিরি দেখাতে আসিনি । হিরোগিরি দেখানোর অনেক আমার জায়গা আছে। আজ ৫০ বছর ধরে খালি হিরোগিরি করে আসছি । কিন্তু আজকের এই পশ্চিমবাংলার বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নিজের ভয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি । আমি নিজে ভয় পেয়েছি ।’ নিজের ভয়ের কারন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন,’কালকে আমাদের এই পশ্চিমবাংলা কি পশ্চিমবাংলা থাকবে কি থাকবে না ? আগামীকাল এটা পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে যাবে না তো ? সেই ভয়ে আপনাদের কাছে দৌড়ে এসেছি ।’
তিনি বলেন,’আপনাদের এটা বলতে যে এবারের সময় এসেছে এক ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে এই তৃণমূল সরকারকে এখান থেকে উৎখাত করার জন্য।আর আমরা যদি না করতে পারি তাহলে জানবেন আমাদের আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই । ওদের থাকার অনেক জায়গা আছে। কিন্তু বলতে পারেন হিন্দুদের জন্য এমন কোন জায়গা আছে, কোন দেশ আছে,সেখানে গিয়ে আমরা থাকতে পারব ? কোন থাকার জায়গা নেই । সেজন্য বলছি আমাদের সবাইকে এক ছাতার নিচে আসতে হবে । সব সনাতনীকে এক ছাতার নিচে এসে লড়তে হবে ।’ মিঠুন চক্রবর্তীর ভাষণ শুনুন 👇
তিনি দলের অভ্যন্তরে বিভেদ দূর করে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়ে বলেন,’আমাদের এখানে যত বড় বড় কার্যকর্তা, নেতা আছেন তাদের আমি হাত জোড় করে বলছি, নিজেদের মধ্যে যদি কোন মনমালিন্য থাকে ইলেকশন অব্দি মিটিয়ে নিন । একসাথে লড়ুন । একসাথে লড়ে দেখিয়ে দিন যে আমরাও পারি ।’
তৃণমূলের ভোটকুশলী ভাড়াটে সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেন ড্রাইভ ও ফাইল ছিনতাই করেছিলেন বলে অভিযোগ । বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন । সেই সমস্ত ফাইলে ঠিক কি আছে তাও এদিন জানান মিঠুন চক্রবর্তী৷ তিনি বলেন,’আই প্যাকের ইডি-এর রেড হয়েছে৷ ইডি কিন্তু বিজেপির নয় । সিবিআই বিজেপির নয় । কিন্তু এটা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইডি,সিবিআই হল আলাদা সংস্থা ।’ এরপর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘তাহলে কি এমন ওখানে ছিল যে তার জন্য তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ঢুকে সেখান থেকে সমস্ত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফাইল নিয়ে চলে এলেন ? কি ছিল তার মধ্যে ?’ তিনি বলেন,’শোনা যাচ্ছে সেখানে নাকি পরিকল্পনা ছিল…. আমার মতে তার মধ্যে তিনটি জিনিস থাকতে পারে ।’
মিঠুন চক্রবর্তী বলেন,’এক,যদি পরিকল্পনাই থাকে, তাহলে সেই পরিকল্পনাটা নিশ্চয়ই বিজেপি, হিন্দু এবং সনাতনীদের এই বাংলা থেকে তাড়ানো । এখন তো বলছেন খেলা হবে । খেলা হবে মানে কি ? ফাঁসি দেবেন নাকি গলা কেটে দেবেন ? নিশ্চয়ই এরকম কিছু একটা হবে । গত বছর ইলেকশনের পর তো সমস্ত লোকেদের মেরেছেন, ঘরছাড়া করেছেন । আমি সমস্ত লোকেদের বলছি, আগ্রাসন নয় যে যার ডিফেন্স নিয়ে তৈরি থাকবেন । এরা যা খুশি করতে পারে । এরা যেভাবেই হোক উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছেন । সেখান থেকে সবাই দূরে থাকবেন । আমরা গণতান্ত্রিকভাবে সংবিধান মেনে জিতিয়ে দেখাবো যে আমরাও পারি । তাহলে প্রথমটা হল আপনি খেলবেন । আমাদের গলা কাটবেন নাকি ফাঁসিতে ঝুলাবেন তা জানি না । হয়তো বলতে পারেন যে যার নিজের নিজের ফাঁসি নাও বন্দুক নিয়ে সে নিজে নিজেকে গুলি করো । যা কিছু বলতে পারেন।’
তিনি বলেন,’দ্বিতীয় কি হতে পারে ? দ্বিতীয় হতে পারে পয়সা । সেই ফাইলে কাকে কত পয়সা দিয়েছেন… কোন ফাইলে কয়লা, বালি, কোন খান থেকে শিক্ষার পয়সা পেয়েছেন তার হিসাব-নিকাশ আছে। তা না হলে এত লুকোনোর কি আছে ?’
মিঠুন বলেন,’আর তৃতীয়, যেটা সব থেকে বেশি ইম্পর্টেন্ট, একটু কান খুলে শুনুন, তৃতীয়টা হল যত অভারতীয় আছে তাদের ভিতরে ঢুকিয়ে আনুন আর এটাকে পশ্চিম বাংলাদেশ তৈরি করুন । না হলে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী কতবার বলে গেলেন যে আমাদের জমি দিন । ৪০০ কিলোমিটার বাংলাদেশ বর্ডার এখনো খালি পড়ে আছে । সেটাকে আমরা তৈরি করব । কিন্তু উনি জমি দিচ্ছেন না । কিছু হলে বলবে না আমি তো এটা জানি না, এটাতো কেন্দ্রের ব্যাপার । আমরা তো বলছি যে এটা কেন্দ্রের দায়িত্ব । তাহলে দিচ্ছেন না কেন জমি। তার একটাই কারণ । ওখান দিয়ে ঢোকান । যত পারেন ভুয়া ভোটার ওখান দিয়ে ঢোকান । ঢোকানোর পর এখানে খুন, রাহাজানি যত ধরনের হিংসা হতে পারে করুন । যদি বাড়িতে চুরি হয় তাহলে তো দোকান দরজার খোলা আছে সেটা দেখবেন । তাহলে জমি দিচ্ছেন না কেন ?’
সিপিএম,কংগ্রেস ও তৃণমূলের ‘সনাতনী’ ক্যাডারদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন,’আমি সিপিএম, কংগ্রেস এবং এমনকি তৃণমূলের ক্যাডারদের কেউ বলছি, যারা হিন্দু যাদের মধ্যে হিন্দুত্ব আছে সকলে এক ছাতার নিচে আসুন । সকলের জোট বেঁধে এই তৃণমূল সরকারকে তাড়ান ।’ সেই সাথে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন,’তবে শুনে রাখুন, এই বাঙালির গায়ে যতক্ষণ এক ফোটা রক্ত আছে ততক্ষণ পশ্চিম বাংলাদেশ কখনো হতে পারবে না । কোই মাঈ কা লাল এ নেহি কর সকতা ।’
সভার শেষে ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনে কেতুগ্রামে খুন হওয়া বিজেপি কর্মী বলরাম মাঝির মায়ের সঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তীর সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া হয় । বর্ষীয়ান অভিনেতাকে ঝুঁকে প্রনাম করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতার মা । মিঠুন চক্রবর্তী তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং ফের মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তিনি বলেন,’উনি যেটা বলছেন, সেটা হল গিয়ে আমি পয়সা চাই না । আমি বিচার চাই । তবে এটুকু বলে দিলাম,যদি বিজেপি সরকার আসে তাহলে বিচার হবে, হবে, হবে ৷’।

