পারমিতা দত্ত,নদীয়া,১৯ জানুয়ারী : পুত্রবধূ ও বেয়ান অর্থাৎ পুত্রবধূর মা মিলে কালাজাদু করে সম্পত্তি হাতানোর ষড়যন্ত্র করছে বলে এক বছর ৭৫-এর বৃদ্ধের মাথায় সন্দেহ ঢুকে যায় । আর সেই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তিনি পুত্রবধূ ও বেয়ানকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুড়ুল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করলেন । আজ সোমবার ভোরে নদীয়া জেলার রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুতোষপুর গ্রামের এই জোড়া খুনের ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় এলাকায় । খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে নিয়ে যায় । পুলিশ জানিয়েছে, মৃতারা হলেন শিল্পা (২৪) এবং তার মা স্বপ্না(৫৬)। পুলিশ ঘাতক বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাস (৭৫)কে গ্রেপ্তার করেছে । পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং খুনে ব্যবহৃত কুড়ুলটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
জানা গেছে,অনন্ত বিশ্বাসের ছেলে পতিতপাবন ফুলের ব্যবসা করেন । তার বিয়ে হয়েছে পার্শ্ববর্তী হলদিপাড়ার মেয়ে শিল্পার সঙ্গে । তাদের একটি শিশুসন্তানও রয়েছে । দিন দুয়েক আগে পতিতপাবনের মায়ের মৃত্যু হয়েছে । তাই শ্রাদ্ধের জন্য তার শাশুড়ি স্বপ্নাদেবী আশুতোষপুর গ্রামে মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। এদিকে বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাস যে পুত্রবধূ ও তার মাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন সেটা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি । বৃদ্ধের মনে বদ্ধমূল ধারনা হয় যে তুকতাক বা কালাজাদু করে তার সমস্ত সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়ে ছেলে ও নাতিকে বঞ্চিত করতে চাইছে তারা । আর এই সন্দেহ থেকেই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে খবর,প্রতিদিনের মত আজও ভোররাত ২টা নাগাদ বাজারে ফুল বিক্রি করতে চলে পতিতপাবন । সকাল ৫:২০ নাগাদ তিনি বাড়ি ফেরেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,’বাড়ি ঢুকে দেখি কুড়ুলটা দেওয়ালে ঠেসানো রয়েছে । কুড়ল রক্তে মাখামাখি । বিষয়টি বাবার কাছে জানতে চাই । তখন উনি আমায় বলেন,”তোর পথের কাঁটাগুলোকে সরিয়ে দিয়েছি’ । একথা শুনে আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠি ।’
জানা গেছে, পতিতপাবনের “একি সর্বনাশ করলে বাবা” বলে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে । তারা দেখে বাড়ির দাওয়ায় বৃদ্ধ অনন্ত বিশ্বাস তার নাতিকে নিয়ে নির্বিকারভাবে বসে আছেন। তারপর তারা ঘরে ঢুকতেই ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জোড়া লাশ পড়ে থাকতে দেখে৷
খবর পেয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রানাঘাট থানায় ফোন করে ঘটনার কথা জানান। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট পুলিশ মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক বৃদ্ধকে । পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ।।

