এইদিন ওয়েবডেস্ক,ফরিদপুর,১৯ জানুয়ারী : অবিভিক্ত বাংলায় এক সময়ে হিন্দু রাজাদের শাসন ছিল । ছিল অসংখ্য মন্দির । মুসলিম হানাদাররা মন্দির ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও হিন্দুরা তাদের প্রাণাধিক প্রিয় দেবদেবীর মূর্তি অপবিত্র হওয়া থেকে রক্ষা করতে লুকিয়ে রাখত৷ আজও দুই বাংলার কোথাও কোথাও এই সমস্ত সুপ্রাচীন দেবদেবীর মুর্তি উদ্ধার হয় । এমনই একটি অতি প্রাচীন ১১৮ কেজি ওজনের কালো কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছিল বাংলাদেশের ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় । মুর্তিটি ৩০ লাখ টাকায় প্রতিমাটি কিনে ৩ কোটি টাকায় বিক্রির চেষ্টা করছিল সাদ্দাম মোল্লা(৩২) নামে একজন ৷ যদিও বাংলাদেশের র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের বুড়াইচ মধ্যপাড়া গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে ঝোপের মধ্য থেকে প্রতিমাটি উদ্ধার করেছে৷ গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাদ্দাম মোল্লাকে । সে বুড়াইচ মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই পুকুরের মালিক ।
ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মহম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি কালো রঙের কষ্টিপাথরের। এটি অত্যন্ত প্রাচীন বলে মনে করা হচ্ছে । তিনি বলেন, ‘এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে এর বাজারমূল্য আমাদের জানা নেই। তবে আমরা যাকে আটক করেছি,সে ৩০ লাখ টাকায় এটি এক জায়গা থেকে কিনেছে এবং প্রায় তিন কোটি টাকায় বিক্রির জন্য একটি চক্রের সঙ্গে কথা বলছিল বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়েছে ।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ হাসানাত বলেন, ‘এই বিষয়ে র্যাব বাদী হয়ে পুরাকীর্তি আইনে থানায় একটি মামলা করেছেন। পাথরের প্রতিমাটি বর্তমানে আলফাডাঙ্গা পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে প্রতিমাটি কষ্টিপাথরে নির্মিত কি না এবং কষ্টিপাথরে নির্মিত হলে এর বাজারমূল্য কেমন, তা নির্ধারণ করবেন।’ ওসি আরও বলেন,’র্যাবের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক হওয়া সাদ্দামকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হবে।।

