এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,১৮ জানুয়ারী : বাংলাদেশের ভূগর্ভে যা ইউরেনিয়াম মজুত আছে তাতে গোটা ভারতকে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সংসদটির সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মহম্মদ । কিন্তু এই ধরনের হাস্যকর মন্তব্য করে নিজের কলেজেই বিদ্রুপের মুখে পড়তে হল তাকে । শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে একটি কনসার্টের মঞ্চে আলী ইবনে মহম্মদ উঠতেই ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে বিদ্রুপ করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ‘কুয়াশার গান’ নামে একটি কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছিল। কনসার্ট চলাকালে মঞ্চে আসেন মুসাদ্দেক। তিনি তখন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন । তবে বিপত্তিটা বাধে তিনি যখন ‘কোটা না সংস্কার?’ স্লোগান দেন। তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাংশ পাল্টা জবাব দেন ‘কোটা, কোটা’ বলে; অন্য একটি অংশ ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে বিদ্রুপ করতে থাকে তাকে। তিনি শেষটা করতে চেয়েছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত স্লোগান ‘তুমি কে, আমি কে?’ বলে, সেখানেও শিক্ষার্থীরা তীর্যক উত্তর দেন ‘মুসাদ্দেক, মুসাদ্দেক’ বলে।
শেখ হাসিনাকে অনৈতিকভাবে উৎখাতের পর ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে ব্যাপক ভারত বিদ্বেষ বেড়ে গেছে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর জিহাদিরা প্রায়ই ভারতের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দিচ্ছে । তার মধ্যে মুসাদ্দেক বিগত কিছু দিন ধরে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে । সম্প্রতি সে দাবি করে বসে যে বাংলাদেশের ভূগর্ভে বিপুল ইউরেনিয়াম মজুত আছে । যা দিয়ে নাকি সমগ্র ভারতকে বেশ কয়েকবার ধ্বংস করে দেওয়া যাবে ।
তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রুপের শিকার হচ্ছে ওই জিহাদি ছাত্রনেতা । রাজীব হোসেন লিখেছেন,’পাকিস্তানি দাঁতাল ইউরেনিয়াম বিশেষজ্ঞ।’ পলাশ সাহার প্রতিক্রিয়া, ‘ইন্ডিয়াকে ধ্বংস করলে তো ইন্ডিয়ার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখদের প্রায় সাথে ৩০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠী ও ধ্বংস হয়ে যাবে, আপনাদের কি একটুও দয়া হয় না!’ আল আমিনের মন্তব্য হল,’চেহারা কিন্তু একটা মানুষের ভেতরের অবস্থা প্রকাশ করে।’
শেখ হাসিনা সমর্থক ঢাকার শেখ আরফান ইসলাম একটা বড়সড় পোস্ট করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘ইতিহাস আমাদের বারবার একটাই শিক্ষা দিয়েছে—এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কখনো কোনো দেশের মঙ্গল বয়ে আনে না। “বাংলাদেশে যে ইউরেনিয়াম আছে, সেটা দিয়ে ইন্ডিয়া ধ্বংস করে দেওয়া যাবে”—এই কথাগুলো শুধু অবিবেচক নয়,এগুলো একটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ঝুঁকির মুখে ফেলে।রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগের মঞ্চ না,এটা দায়িত্ব, পরিমিতি আর কূটনীতির খেলা। শেখ হাসিনা ছিলেন বলেই—বাংলাদেশ ছিল স্থিতিশীল৷ প্রতিবেশী সম্পর্ক ছিল কন্ট্রোলের মধ্যে । আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ছিল দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিততিনি জানতেন কখন কথা বলতে হয় । কখন চুপ থাকতে হয় । কখন শক্ত হতে হয় । কখন কূটনীতি কাজে লাগাতে হয় । আজ শেখ হাসিনা না থাকায় দেশটা যেন দিকহীন এক পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। যে যার মতো কথা বলছে,যে যার মতো ভয় দেখাচ্ছে,আর সেই ভয় দিয়েই দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অনিশ্চয়তার দিকে। “ভারত জুজু” দেখিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত করা হয়েছে । কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে৷ ফলাফল?অর্থনীতি চাপের মুখে৷ আন্তর্জাতিক আস্থা কমছে। রাষ্ট্র ক্রমেই অগভীর বক্তব্যের খেসারত দিচ্ছে । রাষ্ট্র চলে আবেগে না,রাষ্ট্র চলে ইতিহাস, অভিজ্ঞতা আর নেতৃত্বে।এই দেশকে নরকের পথে নয়,ফিরিয়ে নিতে হলে দরকার—দায়িত্বশীল নেতৃত্ব । পরিণত রাজনীতি । শেখ হাসিনার মতো রাষ্ট্রনায়কোচিত বিচক্ষণতা । ইতিহাস ভুলে গেলে দেশ ভুল পথে যায়—আর সেই ভুলের দাম দেয় সাধারণ মানুষই।’।

