এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,১৭ জানুয়ারী : “পশ্চাদমুখী রাজনৈতিক ভাবনা সমন্বিত দলগুলির বহু বছর ধরে পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে ছিল” বলে মন্তব্য করে একসাথে কংগ্রেস-বামপন্থী ও তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । শুধু তাইই নয়,তিনি আরও জানান যে আসাম-উড়িষ্যা- বিহারের পর এবারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে বলে জানালেন তিনি ।
আজ শনিবার দু’দিনের সফরে বঙ্গে পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । প্রথমেই তিনি মালদা টাউন স্টেশনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সবুজ পতাকা দেখিয়ে হাওড়া-গুয়াহাটি (ভায়া মালদা) বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন । এরপর তিনি মালদার মোরগ্রাম মাঠে দলের পরিবর্তন সংকল্প সভা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন । ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন,’বহু দশক ধরে পূর্ব ভারতের রাজনীতি পশ্চাদমুখী রাজনৈতিক ভাবনা সমন্বিত দলগুলির দ্বারা প্রভাবিত ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে পরিস্থিতি বদলেছে। বিহার, ওড়িশা ও অসম বিজেপি–এনডিএ জোটকে ঐতিহাসিক সমর্থন দিয়েছে, যা উন্নয়নের গতিপথ বদলে দিয়েছে।এখন আমাদের উন্নয়নের ভাবনাকে আশীর্বাদ করার পালা পশ্চিমবঙ্গের ।’ জনসভায় বিশাল ভিড় দেখিয়ে তিনি বলেন,’এই ভিড় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়…খুব শীঘ্রই তৃণমূলের অপশাসনের অবসান ঘটবে। বিজেপিই মানুষের পছন্দ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,’বাংলা আমায় অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আজ মালদার এই জনসাগর দেখে আমি নিশ্চিত, বাংলার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য মানুষ আসল পরিবর্তনের সঙ্কল্প নিয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী এদিন তৃণমূল সরকারকে ‘গরিবদের শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন,’কেন্দ্রীয় সরকার গরিবদের জন্য যে টাকা পাঠায়, তা তৃণমূলের লোকজন লুটে নেয়। ওরা নিজেদের সিন্দুক ভরতে ব্যস্ত।’ বিশেষ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগে তিনি সরব হন। তিনি বলেন,’সারা দেশের গরিবরা ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেও বাংলার মানুষ তা পাচ্ছেন না। তৃণমূল সরকার এখানে এই যোজনা চালু করতে দিচ্ছে না।’
মুম্বই পুরসভা এবং তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির সাফল্যের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,’দেশের চারদিকে আজ বিজেপির সুশাসনের সরকার। এবার বাংলার সময় এসেছে।’ বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উপহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার দ্রুত বিকাশই তাঁর সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু সেই পথ আটকাচ্ছে তৃণমূলের হিংসার রাজনীতি।’।

