এইদিন ওয়েবডেস্ক,মঙ্গলকোট,১৫ জানুয়ারী : ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর এখনো পর্যন্ত বিরোধিতা করে যাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস । গতকাল দুপুরে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ফরাক্কার বিডিও অফিস ও অফিস চত্বরে এসআইআর শুনানি ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছিল । যদিও বিষয়টি নিয়ে বিডিও জুনায়েদ আলমেদ ফারাক্কা থানায় “অজ্ঞাতনামা” দের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেছেন।
এই ঘটনার জের মিটতে না মিটিতেই শুনানির নোটিশ বিলি করতে গিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৩ বুথের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) গ্রামবাসীদের হামলার মুখে পড়লেন। বিভাস ঘোষ,সৈফুদ্দিন খোন্দকার ও সুফি মহম্মদ নিজামকে পিণ্ডিরা গ্রামে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে থাকে একদল জনতা । তখন তারা প্রাণ বাঁচাতে পাশেই ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে পড়েন৷ কিন্তু গেটে তালা ঝুলিয়ে তাদের আটকে রাখা হয় । দুপুর বারোটা থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ের গেটে তালা লাগানো থাকে। শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের দাবি যে তারা প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে বিডিও অফিসে গিয়ে হাজিরা দিতে পারবে না । গ্রামের পঞ্চায়েত অফিসে শুনানির ব্যবস্থা করা হোক । বিকেল প্রায় চারটে নাগাদ ঘটনাস্থলে আসেন মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ সাহা, আই সি মধুসূদন ঘোষ। তাঁরা গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন । তাঁরা গ্রামবাসীদের দাবি লিখিতভাবে জমা দিলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তালা খোলা হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর মুক্ত হন বিএলও-রা।
জানা গেছে,মঙ্গলকোট ব্লকের ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েতের পিণ্ডিরা গ্রামের ১৫৬ নম্বর বুথের বিএলও বিভাস ঘোষ, ১৫৭ নম্বর বুথের বিএলও সৈফুদ্দিন খোন্দকার এবং ১৫৮ নম্বর বুথের বিএলও সুফি মহম্মদ নিজাম । ১৫৬ নম্বর বুথের ভোটার সংখ্যা ১৩০১ জন। তার মধ্যে ২১৫ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ১৫৭ বুথের ভোটার সংখ্যা ৭১৭ জন। শুনানিতে ডাকা হয়েছে ২১৯ জনকে। ১৫৮ বুথে ১০৬৫ জন ভোটার। তার মধ্যে শুনানিতে ডাকা হয়েছে ৩৪৩ জনকে। আজ দুপুরে শুনানির নোটিশ দিতে গিয়েছিলেন বিএলও-রা । কিন্তু গ্রামবাসীরা নোটিশ নিতে অস্বীকার করে । প্রথম দিকে অল্পসংখ্যক লোকজন শুনানির নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় । কিন্তু অল্প সময়েই প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় । এরপর প্রাণ বাঁচাতে ৩ বিএলও ভাল্যগ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন । তারপরেও কয়েক ঘন্টা ধরে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল । গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় ।
তখন পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ছিলেন প্রধান অপর্না মাজি সহ পঞ্চায়েত কর্মীরা। প্রধান বলেন,’পঞ্চায়েত অফিসের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন স্থানীয়রা । পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানাই। গ্রামবাসীদের শুনানি সংক্রান্ত দাবি বিবেচনা করার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছি।’।

