এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ জানুয়ারী : আইপ্যাকের দপ্তরে ইডির অভিযানের সময় “ফাইল লুট” কান্ডে সুপ্রিম কোর্টেঈ চরম বিপাকে পড়লেন মমতা ব্যানার্জি । সেই সাথে আইন ভেঙে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে বিপাকে পড়তে চলেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার বর্মাকে । আজ সুপ্রিম কোর্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা এফআইআরগুলির ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে ।
সর্বোচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ,সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, শেক্সপিয়ার সরণি থানা ও বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি এফআইআর আপাতত কার্যকর করা যাবে না।আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ইডির বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর করা যাবে না । একইসঙ্গে ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই নির্দেশ রাজ্যের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এদিন যথারীতি আদালতে সওয়াল করেন অভিষেক মনু সিংহভি-কপিল সিব্বলদের মত দামি দামি আইনজীবীরা ৷
কয়লা পাচার মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শদাতা আই- প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির সময় হস্তক্ষেপের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির আবেদনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে চলছে । বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দায়ের করা আবেদনের শুনানি করছে । মমতা এবং পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কর্মকর্তাদের – ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা এবং দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়বত্র রায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে ইডি।
কয়লা কেলেঙ্কারির অর্থ পাচারের তদন্তের সাথে সম্পর্কিত গত সপ্তাহের ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে এই আবেদন করা হয়েছে। অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে আই-প্যাক অফিসে পৌঁছে বেশ কিছু পেন ড্রাইভ ও ফাইল ইডির হেফাজত থেকে “ছিনতাই” করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ইডির অভিযোগ যে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর ফাইল নিয়ে যাওয়ায়। তদন্তকে আরও বাধাগ্রস্ত করেছে ।
ইডির মতে, তল্লাশিস্থলে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং নথিপত্র অপসারণের অভিযোগ কর্মকর্তাদের উপর ভীতিকর প্রভাব ফেলেছিল এবং স্বাধীনভাবে সংস্থার আইনগত কার্য সম্পাদনের ক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। রাজ্য প্রশাসন বারবার বাধা এবং অসহযোগিতার অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে ইডির অভিযান তৃণমূল কংগ্রেসের গোপনীয় রাজনৈতিক তথ্য বাজেয়াপ্ত করার একটি অবৈধ প্রচেষ্টা ছিল।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও রাজ্য পুলিশের দুই শীর্ষ কর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে । আদালত বলেছে,আমাদের মতে, দেশে আইনের শাসন মেনে চলা এবং প্রতিটি অঙ্গকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য, বিষয়টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন যাতে অপরাধীরা কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আড়ালে সুরক্ষিত না থাকে। আমাদের মতে, আরও বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িত এবং উত্থাপিত হয়েছে, যা যদি অমীমাংসিত থাকতে দেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং এক বা অন্য রাজ্যে আইনহীনতার পরিস্থিতি বিরাজ করবে কারণ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সংগঠন শাসন করছে। এটা সত্য যে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার কোনও দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু একই সাথে, যদি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কোনও গুরুতর অপরাধ তদন্তের জন্য সৎভাবে কাজ করে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে যে দলীয় কার্যকলাপের আড়ালে থাকা সংস্থাগুলিকে ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে কি বাধা দেওয়া যেতে পারে?

