এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,১৫ জানুয়ারী : ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের অনুগামীদের বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ উঠেছিল বুধবার । সেই ঘটনায় “অজ্ঞাতদের” বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হল। ফারাক্কা থানায় দায়ের করা প্রথম প্রতিবেদনের (এফআইআর) তিন পাতার কপিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । তাতে ফারাক্কা থানার ওসির স্বাক্ষরিত এফআইআর-এর বিবরণে বলা হয়েছে, ‘১৪.০১. ২০২৬ তারিখে ১৭.৫৮ মিনিটে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার জুনায়েদ আলমেদের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আজ দুপুর আনুমানিক ১.৩০ মিনিটে যখন এসআইআর শুনানি চলছিল, তখন কিছু অজ্ঞাত লোকে বিডিও অফিসের বিভিন্ন অফিসিয়াল কর্মচারীর উপর হামলা চালায় এবং বিএলও, জয়েন্ট বিডিও,ওসি ইলেকশন,এইআর ও সহ অনান্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সামনে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট চালায়। এই ঘটনায় নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে গিয়ে একজন এআইআরও গুরুতর আহত হন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফারাক্কা থানায় দায়ের করা মামলা নং-২২/২৬ ।
বিডিও-এর অভিযোগের ভিত্তিতে ফারাক্কা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ৩২৯(৪), ২২১, ১৩২, ৩২৪(৩), ১১৫(২) এবং ৩(৫)-এর অধীনে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অপরাধে ‘প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ টু পাবলিক প্রপার্টি অ্যাক্ট’ (PDPP Act), ১৯৮৪-এর ৩ নম্বর ধারাটিও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে ‘এসআইআর ২০২৬’ (SIR 2026)-এর বিরোধিতার নামে । বুধবার যখন ফারাক্কা বিডিও অফিসের মাঠে এস আই আর শুনানির ক্যাম্প চলছিল সেই সময় বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ । বিডিও অফিস ও অফিস চত্বরে এসআইআর শুনানি ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর করে তৃণমূল । শুধু ভাঙচুরই নয়,বিডিও অফিসের কর্মীদের মারধর পর্যন্ত করা হয় । তৃণমূলের হামলায় একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকট্রনিক রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) এবং দুজন মাইক্রো অবজারভার গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে । পাশাপাশি বিডিও অফিসের মূল প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রেখে বিধায়ক মনিরুল ইসলাম “রাম-রহিম” নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষণও দেন ।
তিনি বলেন, ‘রামের যখন নাম শুনছে তখন বলছে আপনার কিছু লাগবে না । আর রহিমের যখন নাম শুনছে তখন চৌদ্দ গুষ্টি ওর খতিয়ান চাইছে। নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতার মানবনা । ভারতের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয় তাহলে মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে ।’
তৃণমূল বিধায়ক বলেন,’ধর্মের নিরিখে নির্বাচন কমিশনা দ্বিচারিতা করছে । আমার কাছে রিপোর্ট আছে…হিন্দু ভাইয়েরা আমাকে বলেছে যে আমি আমার বাপের নাম উল্লেখ করলাম না, বলল কিছু লাগবে না । আর রহিম যখন বলছে তখন ওর চৌদ্দ গুষ্টির নাম চাইছে । বলছে তোমার সাতটা ছেলে আছে, তোমার বাপের পরিচয় দাও । আরে আমার ৭টা ছেলে আছে না ৯টা ছেলে আছে তোমার দেখার কি আছে । তোমার দেখার কি আছে নির্বাচন কমিশনার ?’ তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন,’লড়াই করে এই দেশকে স্বাধীন করেছি। আর ভারতের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয় তাহলে মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে । এই যে আন্দোলন চলছে এই আন্দোলনের আমরা যদি সুরাহা না পাই, এই যে ধরনা লাগলো, একটাও কাগজ আমরা দেখাবো না । মরতে রাজি আছে কিন্তু একটা কাগজও দেখাবো না ।’
তিনি আরও বলেছেন,’বিএলও-কেও নোটিশ ধরানো হচ্ছে । সাধারণ মানুষ কি খাবে ? এখানে দ্বিচারিতা চলছে ? তুমি জনগণের ভোট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছো । স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছো । তুমি আধার কার্ডের মান্যতা দেবে না। তুমি ভোটার কার্ডের মান্যতা দেবে না । তুমি রেশন কার্ডের মান্যতা দেবে না । তুমি ১৯৮৪-৮২ এর হ্যান চাইছ,ত্যান চাইছ । তারপর তোমার সাতটা ছেলেপিলে আছে….তোমার এটা বাপ কিনা….এই নির্বাচন কমিশনকে আমরা মানছি না মানবো না ।’ এখন দেখার বিষয় কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ফারাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গের বিরুদ্ধে পুলিশ কি ব্যবস্থা নেয় ।।

