এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,১৪ জানুয়ারী : খোদ বুথ লেভেল অফিসার(BLO)-এর নথিতেই অসঙ্গতি ! যেকারণে তাকে নিজেকে নিজের নামের এসআইআর শুনানির নোটিশ ধরাতে হল । মঙ্গলবার এমনই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ ব্লকে ৷ আবু ওবায়দা বিন জাররাহ নামে ওই বিএলও পেশায় শিক্ষক । তিনি সামসেরগঞ্জের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বিএলও ছাড়াও তার বুথের প্রায় ৩০০ জন ভোটারকে শুনানির নোটিশ ধরানো হবে । তার মধ্যে গতকাল বিএলও সহ ১০০ জনকে নোটিশ ধরানো হয়৷ তালিকায় নাম রয়েছে ২১১ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমেরও ।
মঙ্গলবার নিজেই নিজেকে নোটিশ ধরানোর পর হতাশ আবু ওবায়দা বিন জাররাহ জানান,তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে একই বুথের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন । তিনি সমস্ত বৈধ নথিপত্র জমা দিয়েছেন । ২০০২ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত প্রতিটি ভোটার তালিকায় তার নামও রয়েছে। তার কথায়,’সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।’ তবে তিনি জানিয়েছেন যে নির্দেশ মেনে তিনি তিনি বিডিও অফিসে হাজিরা দেবেন। অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ওসিকুল আলমও একই দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেছেন,’আমার বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকাতে ছিল, সব নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন ফের শুনানিতে ডাকা হল সেটাই আমি বুঝতে পারছি না ।’
প্রসঙ্গত,মুর্শিদাবাদ,নদীয়া, মালদা, ২৪ পরগণা, কোচবিহার সহ রাজ্যের একাধিক বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে বলে দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ উঠছে । যেকারণে জেলার জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে বলে অভিযোগ বিজেপির ।পূর্বের বামপন্থী এবং বর্তমানের তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড করে দিয়ে ভারতীয় নাগরিক বানানোর অভিযোগও ওঠে এবং এই অভিযোগ যে নিছক অমূলক নয়, তা তৃণমূলের নেতানেত্রীরাই বিভিন্ন সভা সমাবেশে তার প্রমান দিয়েছেন । এখন ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর -এর কাজে ওই সমস্ত বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় তৃণমূল সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এসআইআর-এর প্রবল বিরোধিতার রাস্তায় নেমেছেন বলে বিজেপির অভিযোগ ।।

