শ্রীমদ্ভাগবত গীতার নবম অধ্যায়ের নাম রাজবিদ্যা -রাজগুহ্য-যোগ, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে সবচেয়ে গোপনীয় জ্ঞান (ব্রহ্মবিদ্যা) প্রদান করেন, যা সকল জ্ঞানের সার এবং মোক্ষ লাভের প্রধান উপায়; এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ নিজের স্বরূপ, তাঁর মায়াশক্তি, সৃষ্টি -স্থিতি-লয়ের কারণ এবং ভক্তিযোগের মাধ্যমে কিভাবে তাঁর কাছে পৌঁছানো যায়, সেই পরম জ্ঞান ব্যাখ্যা করেছেন, যা শ্রদ্ধাসহকারে অনুশীলন করলে মানুষ দুঃখময় সংসার থেকে মুক্তি পেতে পারে।
ওং শ্রীপরমাত্মনে নমঃ
অথ নবমোঽধ্য়ায়ঃ ।
রাজবিদ্য়ারাজগুহ্যয়োগঃ
শ্রীভগবানুবাচ
ইদং তু তে গুহ্যতমং প্রবক্ষ্য়াম্যনসূযবে ।
জ্ঞানং বিজ্ঞানসহিতং যজ্জ্ঞাত্বা মোক্ষ্যসেঽশুভাত্ ॥ 1
রাজবিদ্য়া রাজগুহ্য়ং পবিত্রমিদমুত্তমম্ ।
প্রত্যক্ষাবগমং ধর্ম্য়ং সুসুখং কর্তুমব্যযম্ ॥ 2 ॥
অশ্রদ্দধানাঃ পুরুষা ধর্মস্য়াস্য পরংতপ ।
অপ্রাপ্য মাং নিবর্তংতে মৃত্য়ুসংসারবর্ত্মনি ॥ 3 ॥
ময়া ততমিদং সর্বং জগদব্যক্তমূর্তিনা ।
মত্স্থানি সর্বভূতানি ন চাহং তেষ্ববস্থিতঃ ॥ 4 ॥
ন চ মত্স্থানি ভূতানি পশ্য মে যোগমৈশ্বরম্ ।
ভূতভৃন্ন চ ভূতস্থো মমাত্মা ভূতভাবনঃ ॥ 5 ॥
যথাকাশস্থিতো নিত্যং বায়ুঃ সর্বত্রগো মহান্ ।
তথা সর্বাণি ভূতানি মত্স্থানীত্যুপধারয় ॥ 6 ॥
সর্বভূতানি কৌংতেয় প্রকৃতিং যাংতি মামিকাম্ ।
কল্পক্ষয়ে পুনস্তানি কল্পাদৌ বিসৃজাম্যহম্ ॥ 7 ॥
প্রকৃতিং স্বামবষ্টভ্য় বিসৃজামি পুনঃ পুনঃ ।
ভূতগ্রামমিমং কৃত্স্নমবশং প্রকৃতের্বশাত্ ॥ 8 ॥
ন চ মাং তানি কর্মাণি নিবধ্নংতি ধনংজয় ।
উদাসীনবদাসীনমসক্তং তেষু কর্মসু ॥ 9 ॥
ময়াধ্যক্ষেণ প্রকৃতিঃ সূযতে সচরাচরম্ ।
হেতুনানেন কৌংতেয় জগদ্বিপরিবর্ততে ॥ 10 ॥
অবজানংতি মাং মূঢা মানুষীং তনুমাশ্রিতম্ ।
পরং ভাবমজানংতো মম ভূতমহেশ্বরম্ ॥ 11 ॥
মোঘাশা মোঘকর্মাণো মোঘজ্ঞানা বিচেতসঃ ।
রাক্ষসীমাসুরীং চৈব প্রকৃতিং মোহিনীং শ্রিতাঃ ॥ 12 ॥
মহাত্মানস্তু মাং পার্থ দৈবীং প্রকৃতিমাশ্রিতাঃ ।
ভজংত্যনন্যমনসো জ্ঞাত্বা ভূতাদিমব্যযম্ ॥ 13 ॥
সততং কীর্তয়ংতো মাং যতংতশ্চ দৃঢব্রতাঃ ।
নমস্যংতশ্চ মাং ভক্ত্যা নিত্যয়ুক্তা উপাসতে ॥ 14 ॥
জ্ঞানযজ্ঞেন চাপ্যন্য়ে যজংতো মামুপাসতে ।
একত্বেন পৃথক্ত্বেন বহুধা বিশ্বতোমুখম্ ॥ 15 ॥
অহং ক্রতুরহং যজ্ঞঃ স্বধাহমহমৌষধম্ ।
মংত্রোঽহমহমেবাজ্যমহমগ্নিরহং হুতম্ ॥ 16 ॥
পিতাহমস্য জগতো মাতা ধাতা পিতামহঃ ।
বেদ্য়ং পবিত্রমোংকার ঋক্সাম যজুরেব চ ॥ 17 ॥
গতির্ভর্তা প্রভুঃ সাক্ষী নিবাসঃ শরণং সুহৃত্ ।
প্রভবঃ প্রলয়ঃ স্থানং নিধানং বীজমব্যযম্ ॥ 18 ॥
তপাম্যহমহং বর্ষং নিগৃহ্ণাম্যুত্সৃজামি চ ।
অমৃতং চৈব মৃত্যুশ্চ সদসচ্চাহমর্জুন ॥ 19 ॥
ত্রৈবিদ্যা মাং সোমপাঃ পূতপাপা যজ্ঞৈরিষ্ট্বা স্বর্গতিং প্রার্থয়ংতে।
তে পুণ্যমাসাদ্য় সুরেংদ্রলোকমশ্নংতি দিব্যাংদিবি দেবভোগান্ ॥ 20 ॥
তে তং ভুক্ত্বা স্বর্গলোকং বিশালং ক্ষীণে পুণ্যে মর্ত্যলোকং বিশংতি।
এবং ত্রয়ীধর্মমনুপ্রপন্না গতাগতং কামকামা লভংতে ॥ 21 ॥
অনন্যাশ্চিংতয়ংতো মাং যে জনাঃ পর্য়ুপাসতে ।
তেষাং নিত্য়াভিয়ুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্ ॥ 22॥
যেঽপ্যন্যদেবতা ভক্তা যজংতে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ ।
তেঽপি মামেব কৌংতেয় যজংত্যবিধি পূর্বকম্ ॥ 23 ॥
অহং হি সর্বযজ্ঞানাং ভোক্তা চ প্রভুরেব চ ।
ন তু মামভিজানংতি তত্ত্বেনাতশ্চ্যবংতি তে ॥ 24 ॥
যাংতি দেবব্রতা দেবান্পিতৄন্য়াংতি পিতৃব্রতাঃ ।
ভূতানি যাংতি ভূতেজ্য়া যাংতি মদ্য়াজিনোঽপি মাম্ ॥ 25 ॥
পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যো মে ভক্ত্য়া প্রযচ্ছতি ।
তদহং ভক্ত্য়ুপহৃতমশ্নামি প্রযতাত্মনঃ ॥ 26 ॥
যত্করোষি যদশ্নাসি যজ্জুহোষি দদাসি যত্ ।
যত্তপস্যসি কৌংতেয় তত্কুরুষ্ব মদর্পণম্ ॥ 27 ॥
শুভাশুভফলৈরেবং মোক্ষ্যসে কর্মবংধনৈঃ ।
সংন্য়াসয়োগয়ুক্তাত্মা বিমুক্তো মামুপৈষ্যসি ॥ 28 ॥
সমোঽহং সর্বভূতেষু ন মে দ্বেষ্য়োঽস্তি ন প্রিয়ঃ ।
যে ভজংতি তু মাং ভক্ত্য়া ময়ি তে তেষু চাপ্যহম্ ॥ 29
অপি চেত্সুদুরাচারো ভজতে মামনন্যভাক্ ।
সাধুরেব স মংতব্যঃ সম্যগ্ব্যবসিতো হি সঃ ॥ 30 ॥
ক্ষিপ্রং ভবতি ধর্মাত্মা শশ্বচ্ছাংতিং নিগচ্ছতি ।
কৌংতেয় প্রতিজানীহি ন মে ভক্তঃ প্রণশ্যতি ॥ 31 ॥
মাং হি পার্থ ব্যপাশ্রিত্য় যেঽপি স্য়ুঃ পাপয়োনয়ঃ ।
স্ত্রিয়ো বৈশ্য়াস্তথা শূদ্রাস্তেঽপি যাংতি পরাং গতিম্ ॥ 32 ॥
কিং পুনর্ব্রাহ্মণাঃ পুণ্য়া ভক্তা রাজর্ষযস্তথা ।
অনিত্যমসুখং লোকমিমং প্রাপ্য় ভজস্ব মাম্ ॥ 33 ॥
মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্য়াজী মাং নমস্কুরু ।
মামেবৈষ্যসি যুক্ত্বৈবমাত্মানং মত্পরাযণঃ ॥ 34 ॥
।। ওং তত্সদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষত্সু ব্রহ্মবিদ্য়ায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে রাজবিদ্যারাজগুহ্যয়োগো নাম নবমোঽধ্যায়ঃ ॥
অধ্যায়ের মূল বিষয়:
রাজবিদ্যা: এটি শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র জ্ঞান, যা মানুষকে মুক্তি দেয়।
পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ: শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অপ্রাকৃত রূপ ও মহিমা বর্ণনা করেন, যে তিনি সকল সৃষ্টির উৎস এবং সমস্ত কিছুর ধারক।
মায়া ও সৃষ্টি: তাঁরই প্রকৃতি বা শক্তি (মায়া) দ্বারা এই জগৎ পরিচালিত হয় এবং তিনি নিজকে কর্মে আবদ্ধ করেন না।
ভক্তিযোগ: অর্জুনকে তাঁর প্রতি পূর্ণ ভক্তি ও শরণাগতি নিতে বলেন, যেখানে মনকে তাঁর চিন্তায় নিবিষ্ট করে পূজা ও উপাসনা করতে হয়।
সর্বজনীনতা: পাপযোনিতে জন্ম নেওয়া মানুষ ভক্তি করলে পরম গতি লাভ করতে পারে, যা এই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
মোক্ষ লাভের উপায়: মনকে শ্রীকৃষ্ণে নিবদ্ধ করে, তাঁর ভক্ত হয়ে, পূজা ও প্রণাম করে এবং সম্পূর্ণরূপে তাঁর শরণাগত হলে মানুষ তাঁর কাছেই ফিরে যায়।
এই অধ্যায়টি মূলত ভগবানের সাথে জীবের নিত্য সম্পর্ক ও ভক্তি মার্গের মাধ্যমে মোক্ষ লাভের পথ প্রদর্শক, যা অন্য অধ্যায়গুলোতে বর্ণিত জ্ঞান (যেমন কর্মযোগ ও জ্ঞানযোগ) অপেক্ষা গভীর ও গুহ্য।

